নড়াইলের লোহাগড়ায় আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় ক্ষোভে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে ওই ছাত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে মাইগ্রামের নিজ বাড়িতে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ওই ছাত্রী এ বছর খুলনা বয়রা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন।
নিহত ছাত্রীর চাচাতো ভাই এ্যাড. এসএম আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, লোহাগড়া উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামের শহিদুল থান্দারের ছেলে খালাতো ভাই তাশরিফ থান্দারের সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আপত্তিকর পর্যায়ে চলে যায়। তাশরিফ গোপনে তার আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ধারণ করে বিভিন্ন সময় অনৈতিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়। এতে ওই ছাত্রী রাজী না হওয়ায় তাশরিফ তার কাছে থাকা আপত্তিকর ছবি ওই ছাত্রী এবং তার বান্ধবীর মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিন পূর্বে ওই ছবি তার বান্ধবী ছাত্রীর ভাই দাউদ শেখের মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। ছবির বিষয়টি পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়।
‘একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মা তার মোবাইল ফোন চেক করে আপত্তিকর ছবি দেখতে পেয়ে মেয়েকে বকাবকি করেন। এ দিকে তাশরিফের মা ওই কলেজছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকেসহ পরিবারের লোকজনকে শাসিয়ে আসেন।’
বিষয়টি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রামবাসীসহ এলাকার সর্বসাধারণের মধ্যে জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ওই ছাত্রী লজ্জায় শুক্রবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নির্মাণাধীন ভবনের সিলিং ফ্যানের রডের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন বলেন, ‘খবর শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থালে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পরে শনিবার নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
