এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কায় রয়েছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা। সংকট নিরসনে ঢাকা থেকে বের হয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৭০ কি.মি রাস্তা জুড়ে যেসব করণে যানজট হতে পারে, তা চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ।
কারণ তিনটি হলো- যানজটের অন্যতম কারণ চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের গাড়ি দুই লেনে প্রবেশ। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে রাস্তার কাজ চলমান থাকায় গাড়ির ধীর গতিকে টাঙ্গাইলের যানজটের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে ধীর গতিও উত্তরের পথে যানজটের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
ঈদ যাত্রায় যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে ৮ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঈদ মৌসুমে গাড়ির চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুন। এ জন্য বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে রেকর্ড টোল আদায় হয়। এ সময় গাড়ির চাপ সামলাতে বেগ পেতে হয় টোল আদায় কর্তৃপক্ষকে।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদার হিসেবে খ্যাত এলেঙ্গা মহাসড়কের অতি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ড থেকেই উত্তরবঙ্গের দিকে দুই লেনে গাড়ি প্রবেশ করে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, এই বাসস্ট্যান্ডের সার্ভিস লেনের প্রায় এক কি.মি রাস্তা মালবাহী গাড়ি দখল করে রেখেছে। ভারী যানবাহনগুলো সার্ভিস লেন দখল করে রাখায় সিএনজি, ইজিবাইক, অটোরিকশা উঠে যাচ্ছে মহাসড়কে। ফলে এ পথে চলাচলকারীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এ ছাড়াও এলেঙ্গা-জয়দেবপুর চাল লেনের কাজ চলমান থাকলেও মহাসড়কের কোথাও কোথাও খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ সকল খানাখন্দে আটকে গিয়ে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
অন্য দিকে, মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রয়েছ ১৮টি সরু সেতু। এই সেতুগুলোতে দুইটি গাড়ি পাশাপাশি ক্রসিং করতে সমস্যা হচ্ছে। যে কারণে শুধু ঈদ মৌসুমই নয়, প্রায় সারা বছরই এসব এলাকায় যানজট লেগে থাকছে।
মহাসড়কে টাঙ্গাইলের ৬৫ কিলোমিটার অংশে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি লাগবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নিরসনকল্পে সমন্বয়সভা করেছেন। সভায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়ক যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপদ, বিবিএ, সাসেক, বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি, ট্রাক মালিক সমিতির কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পি বলেন, সেতুর লেনে মোট ৯টি টোল বক্স রয়েছে। যার মধ্যে ৭টি দিয়ে মাঝারি ও ভারী যান প্রবেশ করবে। বাকি দুইটা দিয়ে শুধু মোটরসাইকেল প্রবেশ করবে। ঈদের মধ্যে গাড়ির চাপ অনেক বৃদ্ধি পায়। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আশা করি নির্বিঘ্নে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সফল করতে পারব।
টাঙ্গাইল জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এশরাজুল হক বলেন, করোনাকালীন গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাবে কয়েক গুন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ায় এই রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির গতি বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু চার লেনের গাড়ি বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যেতে এলেঙ্গা থেকে দুই লেনে প্রবেশ করছে। এ বছর ঈদ যাত্রায় যানজটের জন্য টাঙ্গাইলের চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম এলাকায় গোলচত্বর থেকে শুরু করে কড্ডার মোড়, নওগাঁ ব্রিজ, পাঠিলা, সিরাজগঞ্জ প্রবেশের করা হাটিকুমরুল রোড, বগুড়া যাওয়ার ফোর লেনের কাজ পুরোপুরি শুরু হয়ে গেছে। সেখানে গাড়ির গতি নেই বললেই চলে। এতে আমাদের টাঙ্গাইলের গাড়িগুলো জমতে থাকবে। এখানে যত সময় বাড়বে ততই এদিকে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, এ বছর ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে ৮ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩ কি.মি সড়ককে ৮টি সেক্টরে ভাগ করে যানজট নিরসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই মহাসড়কের ১৮টি সেতুতে আলাদা পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আশা করা যায়, এবারের ঈদ যাত্রায় মানুষ নির্বিঘ্নেই বাড়ি ফিরতে পারবে।
