উজানের ঢলে হাওরে হঠাৎ তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির ধান। বাধ্য হয়ে কাঁচা ও আধাপাকা ধান কেটে নিতে শুরু করেছেন কৃষকরা। এমনই চিত্র লক্ষ করা গেছে রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায়। হঠাৎ জোয়ারের পানিতে সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে আধাপাকা ধান মাড়াই করছেন।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার সুবন্দি এলাকার কৃষক আব্বাস আলী এবার দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে তার ক্ষেতের সব ধান। কোনো রকমে এক বিঘা জমির আধাপাকা ধান কেটে তুলতে পারলেও বাকি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
আব্বাস আলী বলেন, গত ২০ বছরেও আমরা চৈত্র মাসে এমন পানি দেখি নাই। কোথা থেকে পানি আসল কেউ বলতে পারে না। এলাকার মুরব্বিরাও এ সময়ে এমন পানি দেখে নাই। সন্ধ্যার পর আর অনেক রাতে দুবার জোয়ার আসে। তখন ধান পানির নিচে থাকে। আর দিনের বেলা পানি কমে গেলে ধানের শীষ দেখা যায়। এ এলাকার প্রায় সবার ধান ক্ষেতের একই অবস্থা। এক বিঘা জমির ধান কাটতে আমার ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
মঙ্গলবার উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দি নামাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় চাষিদের হাহাকার। এ ছাড়া আমিনবাজার, কাউন্দিয়া, আশুলিয়া ও ইয়ারপুর ইউনিয়নে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষিদের কপালে। তুরাগের পানিতে দুই শতাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান ফসল তলিয়ে গেছে। কাঁচা অবস্থায় সেসব ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক।
কৃষি অফিস জানিয়েছে, সাভার শিল্পাঞ্চল হলেও মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে ৮ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেন কৃষকরা। আবাদের আওতায় আসা ২৫০ হেক্টরের বেশি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সুবন্দি ও শ্রীপুরসহ আশপাশের এলাকার প্রায় এক হাজার কৃষক এক ফসলি নিচু জমিগুলোতে বছরের পর বছর ধান চাষ করে আসছেন। প্রায় তিন-চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এসব জমিতে এ বছর ধান আবাদ হয়েছে। চৈত্র মাসে হঠাৎ নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধিতে তাদের সব ফসল তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
সুবন্দি এলাকায় পানির কারণে আধাপাকা ধান কেটে এনে মাড়াই করতে দেখা যায় কৃষক সুরুজ মিয়াকে। চার পাকি (বিঘা) জমির সব ধানের গাছ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চোখেমুখে তার বিষাদের ছাপ।
জানতে চাইলে সুরুজ মিয়া বলেন, প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে ৪ পাকি জমিতে ২৮ ধান লাগাইছিলাম। আর ১৫-২০ দিন গেলেই ধান পাইকা যাইতো। কিন্তু হঠাৎ উজানের পানি আইসা নামায় ঢুইকা পড়ছে। আমার পুরা ক্ষেত ডুইবা গেছে। কোনরকমে দেড় পাকি জমির ধান আধাপাকাই কাইটা আনছি। এখন সেই ধান মাড়াই করতাছি। এমনিতেই তো সব শ্যাষ হইয়া গেছে তার ওপর কামলা খরচ দিয়া আবার কাঁচা ধান কাইটা আনা লাগতাছে।
সাভার উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিয়াত আহমেদ বলেন, ‘হঠাৎ জোয়ারের পানি তুরাগ নদ দিয়ে আমিনবাজার, কাউন্দিয়া, আশুলিয়া, ধামসোনা ও ইয়ারপুর ইউনিয়নের কিছু অংশে প্রবেশ করায় ২৫০ হেক্টরের বেশি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ধানটা এমন অবস্থায় আছে যে এখনও কাটার মতো অবস্থা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আসলে আমরা দেখছি যে এরকম জোয়ারের পানি নরমালি আসে না। কিন্তু এবার পানিটা অনেক আগে চলে আসছে। যে কারণে ধানের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। জোয়ারের পানিটা আমিনবাজার ও কাউন্দিয়া বিস্তীর্ণ এলাকা দিয়ে এমনভাবে আসে যে এটাকে বাঁধ দিয়ে আটকানো সম্ভব না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটা আমরা দেখব।
