গাজীপুরের শ্রীপুর থানার পুলিশ গভীর রাতে গ্রামে ঢুকে ৩ ঘণ্টা ধরে তা-ব চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ‘আসামি ধরতে গিয়ে’ পুলিশ হামলা চালিয়ে বাড়িঘর, আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং নারী, শিশু, বৃদ্ধদের নির্দয়ভাবে পেটায়। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে পোশাকধারী ও সাধারণ পোশাকের ১৫-২০ পুলিশ তাদের সোর্সদের নিয়ে চালায় এ তা-ব।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বেশ কিছু লোক এ হামলায় অংশ নেয়Ñ যারা পুলিশের সোর্স হিসেবে এলাকায় কাজ করে। এতে নারী, শিশুসহ অন্তত ২০-২৫ জন আহত হয়। পুলিশের হামলা-ভাঙচুরের বেশ কিছু স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে এক সালিশে পুলিশ এক ব্যক্তিকে ঘুষি মেরে দাঁত ফেলে দেওয়ার জেরে অবরুদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর ‘হামলার শিকার হয়েছে’ উল্লেখ করে আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতদের আসামি দিয়ে শুক্রবার রাতে পুলিশ মামলা করে। এরপর থেকে গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।
গত শুক্রবার ফরিদপুর গ্রামে মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে লাইস উদ্দীনের একটি জমিসংক্রান্ত ঘটনায় সালিশ বসে। সেখানে শ্রীপুর থানার এএসআই শাহীনুর রহমান লাইস উদ্দীনকে ঘুষি মারলে তার একটি দাঁত পড়ে রক্তপাত হতে থাকলে স্থানীয়রা পুলিশকে ঘণ্টা দেড়েক অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বাড়তি পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। গত শনিবার রাতে আসামি ধরতে অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় ফরিদপুর গ্রামের ইসহাক মিয়া (২০), সিরাজুল ইসলাম (৪৫) ও আলম মিয়াকে (৫০)।
এলাকাবাসী জানায়, গ্রামে কোনো পুরুষ না থাকায় পুলিশ বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে ঘরের আসবাব, দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। অনেক বাসায় ভয়ে দরজা না খুললে দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। অনেক বাসায় রান্নাঘরে ঢুকে চুলা, হাঁড়িপাতিল ভেঙে দেয়। পুলিশের এমন আচরণে প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হয় নারী-শিশুরাও।
ভুক্তভোগী হালিমা আক্তার বলেন, ‘রাতে পুলিশ এসে আমাকেও লাঞ্ছিত করেছে। এ সময় আমাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখে। পরে ছেড়ে দেয়। পুলিশ বাসার পানি-বিদ্যুতের লাইন নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় সোর্স মামুন ও মাসুদ পুলিশের সঙ্গে ভাঙচুরে সহায়তা করে।’
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দীন মাদবর বলেন, রাতের বেলায় পুলিশের সঙ্গে মিশে কিছু দুষ্কৃতকারী বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, ‘পুলিশ জনতার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। হামলা-ভাঙচুর পুলিশের কাজ না। রাতে গ্রেপ্তার করা তিনজনকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।’
