বহুমাত্রিক লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে পৌঁছেছে।
রবিবার হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় এ সংক্রান্ত নথি পৌঁছায় বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন শাখার কর্মকর্তারা। হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার শেষে গত ১৩ এপ্রিল ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল-মামুন এক রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগনে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু এবং সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ারুল আলম কারাগারে। পলাতকদের বিরুদ্ধে ওই দিনই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কারাগারে থাকা আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিলের সুযোগ পান। তবে, পলাতকদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে শুনানির জন্য আসলেও তারা আপিলের সুযোগ পান না। মামলার পেপারবুক (রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত সাপেক্ষে এটি সংশ্লিষ্ট এখতিয়ার সম্পন্ন বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে।
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে জঙ্গিদের আক্রমণের শিকার হন অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ। এ সময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। দেশে ২২ দিন ও বিদেশে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা নেন হুমায়ুন আজাদ। এরপর কিছুটা সুস্থ হলে জার্মানির মিউনিখে যান তিনি। একই বছরের ১২ আগস্ট মিউনিখের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হত্যা চেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
সিআইডির তদন্তের পর ২০১২ সালের ১৪ মে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। সালাহউদ্দিন সালেহীন ও আরেক আসামি হাফিজ মাহমুদ এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। সালেহীন তখন পালিয়ে যান। তবে, হাফিজ মাহমুদ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৪১ জন সাক্ষী আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।