ফুলবাড়িয়ায় বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকট, দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ০৭ মে ২০২২, ১০:৪৪ পিএম

দেশে বোরো ধান কাটার সময় চলছে। বোরো ধানে কৃষক বেশ ভালো ফলনের আশা করলেও ছত্রাক জাতীয় রোগে ধানখেত নষ্ট হওয়ায় সেই প্রত্যাশা আর থাকছে না।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক মরিয়া হয়ে ঘুরছে শ্রমিক সংকটে। ন্যায্য মজুরি দিয়েও সময়মতো শ্রমিক পাচ্ছে না তারা।

শুভরিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম সরকার বলেন, এত কষ্ট করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আবাদ করেছি। নিজস্ব শ্রমের কোনো মূল্য ধরা হয়নি। যেমন- জমির আইল বাধা, সার ছিটানো, কীটনাশক স্প্রে করা ইত্যাদি। অতিরিক্ত বিদ্যুতের খরচ, তেল ডিজেলের বাড়তি দামেও আজ কৃষক পাচ্ছে না সময়মতো শ্রমিক এবং ধানের ন্যায্য মূল্যও। বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি রয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোজ প্রতি আটশো থেকে বারোশ টাকা।

অন্যদিকে চুক্তি হিসেবে প্রতি ১০ শতাংশ বা এক কাঠা জমির ফসল কাটলে তাদের দিতে হচ্ছে এক হাজার থেকে তেরোশ টাকা।

আবার বাড়িতে তোলার পরে ধানমাড়াই কলে প্রতি কাঠা দুইশ করে দিতে হচ্ছে। পরে বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে ধান ব্যাপারীরা ধান দেখে নানা রকম টালবাহানা করে এবং শেষে ধানের দাম প্রতি মন চারশ টাকা থেকে আটশ টাকায় বিক্রি করছে কৃষকেরা।

এমতাবস্থায় কৃষক এখন নানান জটিলতায় ভুগছে। সময়মতো পাচ্ছে না শ্রমিক। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। অনেক খেতের ফসল পেকে শ্রমিকের অভাবে নষ্ট হচ্ছে, বাতাসে বৃষ্টিতে কাঁদায় ঝড়ে নষ্ট হয়ে নুয়ে পড়ছে।

উপজেলার কালাদহ, আছিম পাটুলী, ভবানীপুর, বাকতা, কুশমাইল, ফুলবাড়ীয়া, দেওখোলা, পুটিজানা ইউনিয়নগুলোর চিত্র একই রকম। কালিবাজাইল, শুভরিয়া, লক্ষীপুর, জোরবাড়ীয়া, চাঁদপুর, কৈয়ারচালা গ্রামেও একই অবস্থা।

অপর দিকে আবহাওয়ারও বৈরী। যেকোনো সময় ঝড়ো হাওয়াসহ শিলা বৃষ্টির ভয় পাচ্ছেন কৃষকেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত