বিএনপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনপ্রিয়তা যাচাই করুক: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ মে ২০২২, ০৯:৩২ পিএম

আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচন ভীতিতে পেয়ে বসেছে। আসলে ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’ একটা কথা আছে, বিএনপির ক্ষেত্রে এটিই প্রযোজ্য। আশা করবো বিএনপি নির্বাচন ভীতি কাটিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে যোহর নামাজের পর পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে তথ্যমন্ত্রী বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়াকে নিরহংকার, প্রচারবিমুখ, অনুকরণীয় প্রাণের দৃষ্টান্ত বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশেষ সহকারী হিসেবে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছি, সে জন্য তাকে নিয়ে আমারও কিছু স্মৃতি আছে। তিনি একজন নিভৃতচারী, নিরহংকার, মিতভাষী মানুষ ছিলেন, সবাইকে আপন করে নিতেন। তিনি যে জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রীর স্বামী সেটি অনেকেই জানতো না। নিজ গুণে, নিজ নামেই পরিচিত এই মানুষটি পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন, একজন গবেষক ছিলেন, তার গবেষণালব্ধ বই ভারতে পাঠ্য বই হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের সদস্যরা জঘন্য হত্যাকাণ্ডে নিহত হওয়ার পর দু:সহ বেদনাক্লিষ্ট বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাকে সাহস দিয়ে আগলে রাখার মহান ও দুরূহ কাজটি ড. ওয়াজেদ মিয়া করেছেন।’

স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সালটি সম্ভবত ২০০৫, সুধা সদনের আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছি, তিনি বলছেন তার মনটা একটু ভালো, কারণ বাড়ির ঋণটা শোধ হয়েছে। আমি বললাম, দুলাভাই, কোন বাড়ির ঋণ? তিনি সুধা সদন দেখিয়ে বললেন, এই বাড়ির ঋণ। আপনারা জানেন, তার ডাক নাম সুধা মিয়া, সেই নামেই সুধা সদন হয়েছে। এই মানুষটি আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে বললেই ঋণ আরো আগেই পরিশোধ হয়ে যেতো কিন্তু তিনি কাউকে বলেননি। নিজেই কিস্তিতে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করেছেন।’

পরে সাংবাদিকরা বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্য ‘ওবায়দুল কাদের বিএনপির উপদেষ্টা’ এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো বিএনপির মঙ্গলই চাই, আমরা বিএনপির মঙ্গল চাইলেও তারা নিজেরা বিএনপি আত্মহনন চায়। তারা যে সমস্ত পদক্ষেপ বিভিন্ন সময়ে নিয়েছে বা নিচ্ছে এগুলো আত্মহননমূলক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপিকে আত্মহননের পথ পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন যেটি সঠিক পরামর্শ। এখন তারা সেটি গ্রহণ করবে কি করবেন না কি ক্রমাগতভাবে আত্মহননের পথে হাঁটবেন, সেটি বিএনপির ব্যাপার।’

মিলাদ ও দোয়ায় আরও অংশ নেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবির, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত