দেদারসে খালের মাটি বিক্রি, অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ০৩:২৯ পিএম

সাভারে সরকারি খাল ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

গত ২০ মার্চ সাভারের উত্তর কাউন্দিয়া মৌজার আর.এস ৬১৮৩ নং দাগের সরু খাল থেকে মাটির কাটা বন্ধের জন্য অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী সরেজমিনে দেখা যায়,  সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সালেহপুর ব্রিজের পূর্বপাশে অবস্থিত উত্তর কাউন্দিয়া মৌজায় কৃষি জমি ও খাল থেকে অন্তত দশটি এক্সাভেটর  (ভেকু) দিয়ে দেদারসে মাটি কাটা হচ্ছে। কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাটি কেটে অন্তত ৫০টি ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সেসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে মাটি কাটা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খোদ আমিনবাজার ইউনিয়নের রকিব চেয়ারম্যান ওই মাটিখেকোদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ ছাড়া তিনি সাবর আলী ওরফে সাবু নামে এক ব্যক্তির কাছে তিন লাখ টাকায় খালের মাটি বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত ২০ মার্চ সাভার উপজেলার উত্তর কাউন্দিয়া মৌজার আর.এস ৬১৮৩নং দাগের সরু খাল খননের বিরুদ্ধে আমিনবাজারের এলাকাবাসীর পক্ষে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন খান আ. রশিদ, মো. জশিম উদ্দিন।

তাদের পক্ষে ইউসুফ সাহেব নামে এক ব্যক্তি অভিযোগের কপিটি জমা দেন। অভিযোগের সঙ্গে আর.এস নকশার কপি সিট ৫ সংযুক্তি করে দেয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাভার উপজেলাধীন উত্তর কাউন্দিয়া মৌজার আর.এস ৬১৮৩ নং দাগে সরু খালটি অবৈধভাবে খনন করে ইসলাম কোম্পানির ইটভাটাসহ বিভিন্ন ভাটায় লাখ লাখ টাকা মাটি বিক্রি করছেন পার্শ্ববর্তী বড়দেশী এলাকার মো. জুয়েল, শহর আলীর ছেলে সাবর আলী ওরফে সাবুসহ নাম অজানা ব্যক্তিরা।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া যায় অভিযুক্ত সাবর আলী ওরফে সাবুকে।

সরকারি খাল ও কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটিতো আমি একা কাটতেছি না, এখানে ১০-১৫টি গ্রুপে অনেকেই মাটি কাটছে।

লুৎফর কোম্পানি, রকিব চেয়াম্যান, সাইদুল ইসলাম, মিন্টু মেম্বারসহ অনেকেইতো মাটি কাটতেছে, তাহলে শুধু আমার নামে অভিযোগ দেওয়া হলো কেন? এটা অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক।

খালের মাটি কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, খালের মাটি কাটতেছেন আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রকিব আহমেদ। আমি তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা দিয়ে খালের কিছু অংশ মাটি কাটার জন্য কিনেছি। এখনো আমি নিজের জমি থেকেই মাটি কাটতেছি খালের মাটি এখনো কাটতে পারিনি। সরকারি খালের মাটি কেন কিনলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি যেহেতু বিক্রি করা হচ্ছে আমি না কিনলে কেউ না কেউতো কিনবেই।

খালের মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রকিব আহমেদ বলেন, যারাই ওখানে মাটি কাটছে সবাই আমার এলাকারই লোকজন। তবে আমি কোন মাটির ব্যবসা করি না। যে আমার বিরুদ্ধে খালের মাটি বিক্রির অভিযোগ করেছে তাকে আমি চিনিইনা। সাবুতো সাবেক চেয়াম্যানের ভাই বেলায়েতের ব্যবসায়িক অংশীদার। ওরাইতে এতো বছর ধরে খালের মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করে আসছে। আপনারা তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন।

আমিন বাজার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার এমআরবি ব্রীকসের মালিক সালাউদ্দিন মিন্টু বলেন, আমার জমির পাশ থেকে এমনভাবে গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে গেছে এখন বৃষ্টি আসলেই জমি ভেঙে পড়ে যাবে।

এ ছাড়া খালের মাটিও অনেক চওড়া করে কাটা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি আসলে পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙে গেলে আমার ভাটাটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করলেও প্রায় দুই মাস হতে চললো এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমি হতাশ। যদি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও আমরা কোনো প্রতিকার না পাই তাহলে এখন কোথায় যাবো।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত