‘বাল্যবিয়ে গরিব হয়ে জন্মানোর প্রায়শ্চিত্ত’, তালাক নোটিশ পেয়ে স্কুলছাত্রী

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ০৭:০১ পিএম

বিয়েতে রাজি না হলে মাকে তালাক দেবে বাবা এই ভয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের এক ছাত্রী। তার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু পরিবারের চাপে করেন বিয়ে কিন্তু বিয়ের পর দিনেই সেই বিয়েও ভেঙে যায়।

ওই ছাত্রীর রোগ (গলগণ্ড) গোপন করে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে স্বামীর পরিবার। সম্প্রতি বিয়ে তালাক নোটিশ পেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসা ঠাকুরগাঁওয়ের ওই ছাত্রী স্বপ্নভঙ্গের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

বিয়ের আগে তার স্বপ্নভঙ্গের কথা লিখে রেখেছিলেন তিনি। তার সেই লেখা সচেতন মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউপির একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়।

ওই ছাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিশুরা যখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, সে সময়ই অনেক মেয়েশিশুকে সেই স্বপ্ন ফেলে শ্বশুরবাড়ি চলে যেতে হয়। শুধু শিশু নয়, অনেক কিশোরী ও তরুণীকেও তাদের শৈশবের লালিত স্বপ্নের কথা ভুলে যেতে হয়। হয়তো তারা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে আবার নতুন কোনো স্বপ্নে জড়িয়ে পড়ে।

বাল্যবিয়ে গরিব হয়ে জন্মানোর প্রায়শ্চিত্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ওই ছাত্রীর শিক্ষক জানান, ‘মেয়েটি এত বড় স্বপ্ন দেখতে পারে, এটা কিছুতেই বিশ্বাস হয়নি। প্রান্তিক কৃষক পরিবারের মেয়েটি ছাত্রী হিসেবে ছিল মধ্যম সারির। এই পর্যায়ে থেকে কীভাবে এত দূর চিন্তা করতে পারে! শিশুদের মনোজগৎ সম্পর্কে আমাদের ধারণা যথেষ্ট নয়।’

স্থানীয় একটি সংস্থার উন্নয়নকর্মী মৌসুমী রহমান বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মেয়েই বাল্যবিবাহের শিকার। বিয়ের ব্যাপারে কম মেয়েই আপত্তি করে। তবে এই মেয়েটির বিয়েতে আপত্তি ছিল। কিন্তু বাবার অবাধ্য হবে না বলেই বিয়েতে মত দিয়েছিল। তার লিখে রাখা ভাবনাগুলো চমকে ওঠার মতো। এটা একটা দৃষ্টান্ত। একধরনের প্রতিবাদ।

গত ২১ মার্চ ভুক্তভোগীর বিয়ে হয় ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দ নগর মহল্লার শামিম হোসেনের সঙ্গে। এই বিয়ের মধ্যস্থতা করেন ভুক্তভোগীর বড়বোনের স্বামী ফারুক। দেড় লাখ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে বিয়েতে মত দেয় শামিমের পরিবার। যৌতুকও দেয়া হয়। তবে বিয়ের পর দিন ভুক্তভোগী ছাত্রী বাবার বাড়িতে গেলে তাকে আর ঘরে তোলেননি স্বামীর পরিবার। 

ভুক্তভোগীর মা বলেন, এই বিয়েতে আমার মত ছিল না। আমার স্বামীর ইচ্ছায় বিয়ে হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তার এক ছেলে, তিন মেয়ে। বয়স হয়েছে। ছেলেটি সবার ছোট। গ্রামের পরিবেশ ভালো না। কখন যে, কী হয়- এই ভেবে বিয়ে দিয়েছিলাম মেয়েটির। কিন্তু পোড়া কপাল। আমার মেয়ের নাকি ঘ্যাগ (গলগণ্ড) আছে। গত ৮ মে ছেলেটি আমার মেয়েকে তালাকপত্র পাঠিয়েছে।

তিনি দাবি করেন তার মেয়ে সুস্থ। তার কোনো রোগ নেই।

ভুক্তভোগীর স্বামী শামীম হোসেন জানিয়েছেন, তিনি তার স্ত্রীকে ঘরে তুলবেন না। কারণ তার রোগ লুকানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত