কুলাউড়ায় বেড়েছে কেঁচো সারের উৎপাদন, লাভবান কৃষকেরা

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১২:১৯ পিএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বেড়েছে এই সারের উৎপাদন। কেঁচো ব্যবহার করে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর বর্জ্য ও দেহাবশেষকে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর যে সার পাওয়া যায় তাই কেঁচো সার বা বার্মি কম্পোস্ট নামে পরিচিত। এই সার ব্যবহারে মাটির গুণাগুণ ঠিক রেখে মাটিকে উর্বর করতে সাহায্য করে।

গেল বছর উপজেলা কৃষি অফিস প্রকল্পের মাধ্যমে বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদনে কৃষকদের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা করা হয়। চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় উপজেলার প্রায় শতাধিক জায়গায় বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় এ সারের ব্যবহার ও উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের। এতে সহজেই ক্ষয় হওয়া মাটির উর্বরতা ফিরতে সাহায্য করছে।

প্রথমে উপজেলার জয়চণ্ডী, হাজীপুর, ব্রাহ্মণবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেকে ক্ষুদ্র আকারে নিজেদের ব্যবহারের জন্য বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন শুরু হয়। তবে এখন চাহিদা বাড়ায় অনেকেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উৎপাদন করছেন।

উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় প্রথমে একটি রিং দিয়ে শুরু করেছিলেন বার্মি কম্পোস্টের উৎপাদন। এখন ৮টি রিং থেকে নিয়মিত বার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় নিজের ফসলি জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি উপজেলা শহরে কীটনাশকের দোকানে বার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করছেন।

মরিয়ম তার খেতে লাউ, কুমড়া, শাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদনে এই কেঁচো সারের ব্যবহার করে ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানান। তিনি আগে বাজার থেকে রাসায়নিক সার কিনে সবজি খেতে করতেন। বর্তমানে নিজের করা উৎপাদিত সার ব্যবহার করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্যাকেট করে কেজি হিসেবে কীটনাশকের দোকানে নিয়মিত বিক্রি করেন। ১৫ টাকা দরে তিনি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৫ কেজি সার বিক্রি করেছেন।

রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ধীরে ধীরে বিকল হয়ে পড়ে। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ফসলের মাঠ থেকে নদীনালা, হাওর-বাঁওড়ে ছড়িয়ে পড়ে মাছের মৃত্যুর কারণ হয়। অনেক সময় পাখি ও প্রাণীরও ক্ষতি হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে। এসবসহ, নানাবিধ কারণেই কেঁচো সারসহ জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, বার্মি কম্পোস্ট সারে গাছের অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি খাদ্য উপাদানের মধ্যে ১০টিই বিদ্যমান। যা পৃথিবীর বুকে উর্বর মাটি তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন দেশ রূপান্তরকে জানান, কৃষি অফিস সার উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা করছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত