অভাবের সংসারে দ্বিতীয় সন্তান, হতাশ মা শিশুকে তুলে দিলেন অন্যের হাতে

আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ০৭:৪৩ পিএম

আগের বাচ্চার বয়স ১৬ মাস। এরই মধ্যে জন্ম নিল দ্বিতীয় সন্তান। অথচ মায়ের বয়স মাত্র বিশ বছর। অভাবের সংসার চলতে চায় না কিছুতে। এ অবস্থায় অপরিকল্পিতভাবে দ্বিতীয় সন্তান নেয়ায় প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও শুনতে হয় নানা কথা। এসব কারণে হতাশায় ভুগে নিজের ১৪ দিন বয়সের সন্তানকে অন্যের কাছে দিয়ে দেন ওই মা। তবে বাসায় ফিরে বলেন তার বাচ্চা চুরি হেয় গেছে।

সোমবার বাবা থানায় অভিযোগ জানানোর পর ওই শিশুকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করে পুলিশ। নগরীর আকবর শাহ থানা পুলিশের সহায়তায় সীতাকুন্ড থানার এসআই নোমান চট্রগ্রাম সিটি গেইট সংলগ্ন একটি বাসা থেকে শিশুকে উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই দম্পতির বিয়ে হয় ২০১৮ সালের নভেম্বরে। প্রথম সন্তানের পর অপরিকল্পিতভাবে তাদের ঘরে দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। অভাবের সংসারে নতুন শিশুর আগমনের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশীরা খোঁটা দিতে থাকে। মায়ের শারীরিক অবস্থাও জীর্ণ। এ অবস্থায় হতাশায় ভুগে সোমবার ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শিশুকে নিয়ে ঘর থেকে বের হন ওই মা। ঘণ্টা দুয়েক পর শিশুকে কোথাও রেখে একা বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি ফিরে সবাইকে সিএনজি থেকে বাচ্চা চুরি গেছে বলে জানান। এক নারী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে যান বলে সেদিন তিনি সবাইকে বলেন। পরদিন তার স্বামী বাদী হয়ে বাচ্চা চুরি গেছে মর্মে সীতাকুন্ড থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ শিশুকে উদ্ধার করে।

শিশুর বাবা বলেন, আমার বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। পেশায় আমি একজন অটোরিকশা চালক। বাচ্চা ডেলিভারির সময় হওয়াতে স্ত্রীকে কিছুদিন আগে সীতাকুন্ডে বাবার বাড়িতে পাঠাই। সুস্থভাবে বাচ্চা প্রসব করে সে। অপরিকল্পিতভাবে তার গর্ভে সন্তান চলে আসে। তার শারীরিক অবস্থাও জীর্ণ। আমাদের সংসারেও অভাব রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিবেশীরা তাকে বিভিন্ন কথা শোনাতে থাকে। এরপর এমন একটি ঘটনা ঘটল। তবে যাদের হাতে আমাদের সন্তানকে স্ত্রী তুলে দিয়েছে তারা আমাদের পরিচিত।   

ওই মা নিজ সন্তানকে পরিচিত এক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি এ জন্য কোনো টাকা নেননি বলে জানান। এর বেশি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই তরুণী।

যদিও যে পরিবারের হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয় তারা বলছেন ওই মাকে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

সীতাকুন্ড থানার এসআই নোমান এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশশে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত