বিবাহ বিচ্ছেদ: সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ, সুপারিশ

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ১১:১৭ পিএম

দেশে গত কয়েক বছর ধরে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।  

রবিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ কমিয়ে আনতে কাউন্সিলিংসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কমিটি। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে ‘আমার ঘর আমার ফুলবাগান’ নামে একটি কর্মসূচির কথা ভেবেছিলাম। এ ধরণের কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে। যাতে পরিবারগুলো সুরিক্ষত হয়।’

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সদ্যবিবাহিত দম্পতিদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি লুৎফুন নেসা খান বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি উত্থাপন করে। বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য মাদককে দায়ী করেন করেনি এ এমপি। 
এর আগের বৈঠকে সংসদ সদস্য শবনম জাহান বলেন, ‘বর্তমান সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ খুব সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।’ 

ওই বৈঠকে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সুপারিশ আসেনি। 

বৈঠক সম্পর্কে লুৎফুন নেসা দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য ড্রাগস, পরকীয়া ও আকাশ সংস্কৃতির বর্তমান পরিস্থিতিকে দায়ী করেন। 

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ও টিকটকের কারণে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেন এবং একই কারণে পরকীয়া বেড়ে গেছে বলেও মনে করেন এই এমপি।  

লুৎফুন নেসা বলেন, ‘এখন দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করেন। স্বামী-স্ত্রী নিজেরা নিজেদের সময় না দিয়ে অন্য নারী বা পুরুষের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। এভাবে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং এক সময় সংসার ভেঙে যায়।’ 

তিনি টিকটক বা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ না করে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুপারিশ করেন। 

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশে বিবাহ-বিচ্ছেদের সংখ্যা কমানো ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কর্মজীবী দম্পতি নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প আকারে বিশ্লেষণধর্মী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে দেশের কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলগুলো ভাড়ায় পরিচালনার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক (পাহাড়ি এলাকা, নদীভাঙন এলাকা, কলকারখানা ও জনসংখ্যা মোতাবেক) নীতিমালা পরিবর্তনক্রমে প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ফজিলাতুন নেসা, শবনম জাহান, লুৎফুন নেসা খান, সাহাদারা মান্নান এবং কানিজ ফাতেমা আহমেদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত