আলেক্সান্দ্রো পাতোকে মনে আছে তো? অবশ্য দীর্ঘদিন পাদ প্রদীপের আলোর বাইরে তিনি। তারপরও নিশ্চয় মনে থাকার কথা ফুটবল প্রেমীদের।
নতুন শতকের প্রথম দশকের শেষ ও দ্বিতীয় দশকের শুরুতে এসি মিলানের জার্সিতে কী দুর্দান্ত-ই না ছিলেন পাতো। যাকে বলে, প্রতিপক্ষের জন্য সাক্ষাৎ যমদূত। খবরের পাতার নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি।
অল্প সময়ে ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছিলেন পাতো। তার শরীরের যে ব্রাজিলিয়ান রক্ত। ছিলেন তার সময়ের সেরা তারকাদের একজন। কিন্তু যে অদম্য গতিতে আগমণ, ঠিক তেমনি হারিয়ে গেলেন হঠাৎ করে। যে সময় পাতোর বিশ্ব জয় করার কথা, সে সময় ফর্ম ও চোটের সঙ্গে লড়ে হারিয়ে গেলেন ইউরোপের ফুটবল থেকে।
লাতিন ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাব ঘুরে পাতো এখন আমেরিকার অরল্যান্ডো সিটিতে। বয়স চলছে ৩২ বছর। এই বয়সেও অনেক ফুটবলার মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তরুণ বয়সের প্রতিশ্রুতিশীল পাতো যেন এখন এক ভুলে যাওয়া নাম।
জাতীয় দলেও অপাঙ্ক্তেয়। ব্রাজিলের কোচ তিতের চিন্তায় পাতো নেই বললেই চলে। সামনে কাতার বিশ্বকাপ। সেলেসাওরাও নিজেদের চিন্তা-পরিকল্পনা সাজিয়ে নিচ্ছে। কোচের চিন্তায় থাকুক বা না থাকুক, পাতো কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার আশা এখনো ছাড়েননি।
৯ বছর হয় জাতীয় দলের হয়ে দেখা যায়নি যায়নি ব্রাজিলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ১০ গোল করা তারকাকে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর থেকে হলুদ জার্সিতে অনুপস্থিত পাতো। তবে এখনও স্বপ্ন দেখছেন কাতার বিশ্বকাপে খেলার।
আগামী নভেম্বরে শুরু ২০২২ বিশ্বকাপ। তার জন্য কোচ তিতেকে ‘ইমপ্রেস’ করতে ৬ মাসেরও কম সময় পাচ্ছেন তিনি। অবশ্য এক্ষেত্রে সাবেক মিলান তারকার অনুপ্রেরণা দুই স্বদেশি ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা ও দানি আলভেজ।
দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাতো বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপে যাওয়ার। থিয়াগো সিলভা ও দানি আলভেজের দিকে দেখুন, একজনের বয়স ৩৭ এবং আরেকজনের ৩৯। দুজনে এখনো খেলে যাচ্ছেন। তবে এসব বিষয় ঈশ্বরের সময়ে ঘটে। আমি কেবল আজকের জন্য বেঁচে আছি। বাকিটা তার ওপর নির্ভর।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে যোগ দেন পাতো। অরল্যান্ডো সিটির হয়ে শুরুটা দুর্দান্ত হয় তার। এমএলএসে ১৫ ম্যাচে পাঁচ গোলে অবদান রাখেন।
