বিএনপির হয়ে মাঠে সরব বহিস্কৃত তৈমূর

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ০৩:৫০ পিএম

দল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার হয়েছেন সিটি নির্বাচনের আগে। তবুও নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি। প্রচারণায় বলেছিলেন ‘আমার পদ লাগে না, চেহারাই বিএনপি’। সেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বহিস্কৃত আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকারকে সরব দেখা গেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে।

সোমবার (৩০ মে) এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের একাধিক স্পটে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন তৈমূর। দোয়া মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে দুঃস্থ্যদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেছেন।

বিশেষ এই দিনই নয়, দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নেতা-কর্মীদের পাশে আছেন তিনি। এখনও তার ডাকে উপস্থিত হন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী। আদালতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়েও সরব থাকতে দেখা যায় বহিস্কৃত এই নেতাকে।

সোমবার সকালে শহরের মাসদাইর মোড় এলাকা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ইসদাইর, বিসিক, গলাচিপা, সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এসব দোয়া ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা খাবার বিতরণ করা হয়। তৈমূর আলম খন্দকার নিজে প্রতিটি স্পটে গিয়ে দোয়ায় অংশ নেন ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। অবশ্য এ নিয়ে কখনো কোন আপত্তিও তোলেনি জেলা বিএনপির বর্তমান পদধারীরা। আবার কোন মন্তব্য করতেও রাজি হননি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ।

এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমরা তো মানুষের দল, মানুষের জন্য কাজ করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। তার লড়াই ছিল দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আজ আমরা দেশের এই দুঃশাসন মুক্ত করার স্বপ্ন দেখছি। এই জিয়াউর রহমান মানেই বাংলাদেশ।’

মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হাজী নুর উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্থানীয় নির্বাচনে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে কোন আপত্তি নেই। পরবর্তীতে সিটি নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থী হলে প্রতীক বরাদ্দের আগেই তাকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত একাই লড়াই করেছেন। সরকার নানা ষড়যন্ত্র করে তাকে ৬৬ হাজার ভোটে পরাজিত দেখায়।’

আরও বলেন, “নির্বাচনের দুদিন পর ১৮ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। সেইসঙ্গে বহিস্কার করা হয় সিটি নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও। দলের এ সিদ্ধান্ত তৃণমূল কখনোই মেনে নেয়নি। তাই তৈমূর যেখানে যান বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হন তার পাশে। তিনিও বিএনপি ছাড়া কিছু বোঝেন না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে সর্বদা মাঠে থাকা মূর্তিমান নেতা তৈমূর আলমের বিকল্প নেই। ”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হন  তৈমূর আলম খন্দকার। এতে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে পান ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত