বেগমগঞ্জে সাংবাদিককে লাঞ্ছনার অভিযোগ যুবলীগের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ০৮:১৭ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের সময় সংবাদ সংগ্রহকালে একাত্তর টিভির প্রতিনিধিকে লাঞ্ছনা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বেলা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।

একাত্তর টিভির প্রতিনিধি মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চৌমুহনী পৌর বিএনপি, যুব ও ছাত্রদলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত কত উল্যা বুলুর উপস্থিতিতে বেগমগঞ্জের বাংলাবাজারে খাবার বিতরণ করে। সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ বাধা দেয়। ওই সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও হামলা করে। মোবাইলে তাদের হামলার ফুটেজ ধারণ করার সময় গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক রকিসহ কিছু কর্মী আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের চেষ্টা করে। এসব ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় তারা আমার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের জানালে প্রায় দুই ঘণ্টা পর মোবাইল ফেরত দিলেও ধারণকৃত সব ভিডিও তারা মুছে দেয়।

এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেগমগঞ্জের চারটি স্থানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত কত উল্যা বুলুর উপস্থিতিতে খাবার বিতরণ করা হয়। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা চৌরাস্তায় খাবার বিতরণ করে বাংলাবাজারে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেয়া যুবলীগ-ছাত্রলীগ বাধা দেয়। এ সময় তারা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, সংঘাত এড়াতে পুলিশ উভয় দলের লোকজনকে সরিয়ে দেয়।

সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিনি বলেন, শুনেছি তিনি ফুটেজ নেয়ার সময় মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে যায়, পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দুঃখপ্রকাশ করে তা ফিরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। তারা অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত