যশোরে গৃহস্থের বাড়িতে দিনমজুর নকিম উদ্দীন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার ( ২৯ মে) রাতে তাকে যৌনাঙ্গ কেটে ও চোখ উপড়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় অপর দিন মজুর লিটন মালিথা।
সমকামী কবিরাজের ‘কুমন্ত্রণায়’ চির যৌবন পেতে লিটন মালিথা তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর যৌনাঙ্গ কেটে ও চোখের মণি উপড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।
দুপুরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রূপান কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর একপর্যায়ে যশোরের ডিবি পুলিশ বুধবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার চর ঘিওরের মাঠ থেকে কৃষকের ছদ্মবেশে থাকা লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার স্বীকারোক্তিতে একটি বিচালি গাদার ভেতর থেকে নিহত নকিম উদ্দীনের কেটে নেয়া যৌনাঙ্গ ও চোখের মণি উদ্ধার করা হয়। লিটনের দেওয়া তথ্যে তান্ত্রিক কবিরাজ আব্দুল বারেককে একই দিন রাত সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর থেকে আটক করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানিয়েছে, তান্ত্রিক কবিরাজ বারেকের নির্দেশে বিকৃত মানসিকতার লিটন যৌন শক্তি বৃদ্ধি ও চির যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার নেশায় নর হত্যা করে যৌনাঙ্গ, অণ্ডকোষ ও চোখের মণি সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছিল। এ কাজের নিমিত্তে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর অথবা রিকশা চালানোর কাজ করত। এর একপর্যায়ে গত ২৬ জুন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজারে আসে দিনমজুর হিসেবে ধানের কাজ করতে। সেখানে ষাট বছরের বৃদ্ধ নকিম উদ্দীনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এবং তাকে সে টার্গেট করে হত্যার জন্য। নকিম উদ্দীনের সঙ্গে সে কাজে যায় উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বেনজির আহম্মেদের বাড়িতে। রবিবার রাতে সে মোবাইল ফোনে কবিরাজ বারেকের সঙ্গে কথা বলে তার নির্দেশে নকিমকে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, লিটন আরো বলেছে, কবিরাজ বারেকের সঙ্গে তার সমকামী সম্পর্ক। তার যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে সে সম্পর্ক স্থাপন করত। সে নিজেও যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য উতলা হয়ে ওঠে।
আটক লিটন মালিথা (৪০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোহাম্মদ জামা গ্রামের এবং কবিরাজ আব্দুল বারেক (৬০) একই জেলার দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নকিম উদ্দীন হত্যার ঘটনায় তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩১ মে বাঘারপাড়া থানায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
