আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যার মূল আসামি মুসা ওমানে আটক

আপডেট : ০৩ জুন ২০২২, ১০:৫৬ পিএম

রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যার হোতা, সন্দেহভাজন পলাতক সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে আটক করেছে ওমানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

মঙ্গলবার দুবাই থেকে ওমানে যাওয়ার পরপরই তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা ওমানের এনসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। 

শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক(এআইজি) মহিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে এসব

তথ্য জানিয়ে বলেন, চলতি সপ্তাহেই পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২-৩ সদস্যের একটি টিম ওমানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই মুসাকে নিয়ে দেশে ফিরবেন।

তিনি বলেন, ‘ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই। মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল এসিস্ট্যান্ট সিস্টেমও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। কাজেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের নিয়মের মধ্যে থেকে এনসিবি টু এনসিবির সুসম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেয়া হবে’। 

মহিউল আরো বলেন, ‘মুসা দুবাই থেকে ওমান যাওয়ার আগেই ওমানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য সরবরাহ করা হয়। তারাও আমাদেরে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করছেন’ 

ওমানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মুসা আটক হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ও হত্যা মামলার বাদী ফারহানা ইসলাম ডলি। 

শুক্রবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি একজন বিধবা নারী হিসেবে ওমান সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন আমার স্বামী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এই মুসাকে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ফিরিয়ে দেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে পারলে, আমার স্বামী হত্যাকাণ্ডে জড়িত মদদদাতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়কারী ও অর্থ সরবরাহকারী-সবার  মুখোষ উন্মোচিত হবে। ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ তৈরি হবে। 

গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন গাড়িতে থাকা মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু। এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা ২৪ বছর বয়সী কলেজছাত্রী প্রীতি। এ ঘটনার পরের দিন টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলার পর ২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করে ডিবির মতিঝিল বিভাগ। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী যুবলীগ নেতা এরফান উল্লাহ দামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

খুনের এক সপ্তাহ পর র‍্যাব এ ঘটনায় মতিঝিলের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮) এবং মোরশেদুল আলম ওরফে কাইলা পলাশকে (৫১) গ্রেপ্তার করে। 

ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পরদিনই কিলার আকাশের বিষয়ে নিশ্চিত হই। জয়পুরহাট সীমান্ত পার হতে ব্যর্থ হয়ে বগুড়া ফিরে গেলে তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে তার কাছ থেকে কেবল সুমন শিকদার ওরফে মুছার নাম ছাড়া আর কোনো তথ্য বের করতে পারেননি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। অস্ত্র সরবরাহকারীর নামও অজানা রয়ে গেছে। তবে তাদের ধারণা, আরো দুটো ব্যাক আপ টিম ছিলো কিলিং মিশনে। 

তদন্ত দলের সুপারভাইজার ও  ঢাকা মহানগর পুলিশের(ডিএমপি)  গোয়েন্দা শাখার মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে  বলেন, হত্যার প্রধান শ্যুটার আকাশ স্বীকার করেছে তার সঙ্গে কেবল মুসার কথা হতো। তার নির্দেশেই সে কাজটি করেছে। তবে এর ওপর কারা রয়েছে সে সম্পর্কে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মুসাকে পাওয়া গেলে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সহজ হবে।

র‍্যাব জানায়, টিপু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম একজন হলো মুসা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে অন্যদের নামও বেরিয়ে আসবে। ঘটনার তিন থেকে চার মাস আগে টিপু হত্যার পরিকল্পনা হয়। এর পেছনে কাজ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ-প্রকাশের অন্যতম শ্যুটার ও বোচা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সুমন শিকদার ওরফে মুসার  সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে ওমর ফারুক। প্রাথমিকভাবে দেয়া হয় নয় লাখ টাকা। টাকার বড় একটি অংশের জোগান দেন ওমর ফারুক। হত্যার ঠিক ১২ দিন আগে সব কিছু ঠিক করে ১২ মার্চ দুবাইয়ে চলে যায় মুসা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত