গৃহহীন অন্ধ লক্ষ্মী রানী পেলেন ‘লক্ষ্মীনিবাস’

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ১২:১৯ এএম

সত্তরোর্ধ্ব স্বামী-সন্তানহারা অন্ধ লক্ষ্মী রানী দে। রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের বারান্দায় গত ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। হাসপাতালের বারান্দা ছাড়াও মিশন হাসপাতাল গেট এবং চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারেও খেয়ে না খেয়ে দিনরাত কাটে তার। গৃহ সম্বলহীন এ বৃদ্ধা এবার নিজের থাকার জন্য একটি ঘর পেয়েছেন। গত বুধবার কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির জাহান তার হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন। লক্ষ্মীকে এদিন নতুন কাপড়, খাবার, ঘরের সরঞ্জামও দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে লক্ষ্মীনিবাসের যাত্রা শুরু করা হয়।

লক্ষ্মী রানীকে নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকার সংবাদ দেখে এগিয়ে আসেন ইউএনও মুনতাসির জাহান। তিনি বেশ কয়েকবার লক্ষ্মীর খোঁজ-খবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা করেন। একসময় ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে মিশন হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মংচিং মারমা একগন্ডা জমি দেন লক্ষ্মী রানীকে ঘর করে দেওয়ার জন্য। সেই জমিতেই লক্ষ্মীনিবাস নির্মাণ করা হয়।

রাঙ্গামাটির রাজবাড়ী এলাকায় লক্ষ্মীর বাবার বাড়ি। দেশ স্বাধীনের আগে তাদের পৈতৃক বাড়ি কাপ্তাই লেকে তলিয়ে যাওয়ার পর সপরিবারে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা হিন্দুপাড়ায় মামার বাড়িতে চলে আসেন। সেখান তার বিয়ে হয়, দুই সন্তানও হয়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, অল্প বয়সে তার সন্তানরা মারা যায়। এরপর স্বামীকেও হারান। ১৯৯২ সালে এক কঠিন রোগে তাকে হারাতে হয় দুই চোখ।  ইউএনও মুনতাসির জাহান বলেন, মংচিং মারমাই তার প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত