৯ জুন, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে কনসার্ট শুরু করার কথা থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে সেটি বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয় বিকেল ৫টা নাগাদ। সন্ধ্যা ৬টায় ফের জানানো হয় কনসার্ট হওয়ার। অবশেষে এদিন রাত ৯টায় দ্বিধা দ্বন্দ্বের ঝড় উপেক্ষা করেই শুরু হয় কনসার্ট।
সারাদিন বৃষ্টি থাকলেও কনসার্টে শুরুর আগেই জনস্রোতে পরিণত হয় আর্মি স্টেডিয়াম। রাত ৯টায় অর্ণব ও তার দলের ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে এই কনসার্ট গভীর রাতে গিয়ে থামে জেমসের দরাজ কণ্ঠে ‘ভিগি ভিগি’ গানের ধ্বনিতে।
মূল অনুষ্ঠান শুরুতেই শায়ান চৌধুরী অর্ণব ও সুনিধি নায়েক কোক স্টুডিও বাংলার সদস্যদের নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র সংগীত। এরপরেই মঞ্চে আসেন পান্থ কানাই ও অনিমেষ রায়। তারা হাজং ও বাংলা ভাষার ফিউশনে তৈরি ‘নাসেক নাসেক’ ও ‘দোল দোল দুলুনি’ পরিবেশন করে পুরো মাঠ জমিয়ে তোলেন।
এরপর মঞ্চে ওঠেন ঋতুরাজ ও নন্দিতা। তারা গেয়ে শোনান নজরুলের ‘বুলবুলি’। তাদের পরেই বগা তালেবকে সঙ্গে নিয়ে অর্ণব পরিবেশন করেন ‘চিলতে রোদে’ এবং ‘ও কি একবার আসিয়া’ গানের ফিউশন। এরপর মঞ্চে ওঠেন মিজান ও মমতাজ। এসময় মমতাজের অনুরোধে সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর তারা পরিবেশন করেন ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ ও ‘বাবা মাওলানা’র ফিউশন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মঞ্চে ওঠে ব্যান্ড লালন, নেমেসিস, তাহসান, ওয়ারফেজ, ইন্ট্রোয়েট ও জালালি সেট এবং নগরবাউল জেমস।
শুরুতে ধরেন তার বিখ্যাত গান ‘আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেবো’। এরপর ‘দুষ্ট ছেলের দল’ ও ‘পাগলা হাওয়া’ গান দুটি পরিবেশন করে জমিয়ে তোলেন পুরো স্টেডিয়াম। যদিও সময় স্বল্পতার কারণে সেই তারুণ্যের উন্মাদনা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। পুরো আয়োজনের শেষটা হয় বলিউডের ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ভিগি ভিগি’ গানটি দিয়ে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বকাপের আসল ট্রফি নিয়ে একই মঞ্চে ওঠেন ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী তারকা ক্রিস্তিয়ান কারেম্বুকে। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ঢাকার মঞ্চে ট্রফি হাতে কারেম্বুকে বেশ সাবলীল ও প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। মাইক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফ্রেঞ্চ তারকা বলেছেন, ‘যদিও বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে উদ্যাপন করছি। আপনাদের মাঝে থাকতে পেরে অবশ্যই খুশি আমি।। সম্মানিত বোধ করছি।’
উল্লেখ্য, কোকাকোলাকে সঙ্গে নিয়ে পুরো আয়োজনটি করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
