জমির আইল দিয়ে দুই গ্রামে চলাচল, ৬ মাস থাকে পানির নিচে

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ০২:৪৭ পিএম

‘ভোট আসলে আমাদের কদর বাড়ে, কিন্তু ভোট শেষে কেউ খবর নেয় না। জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমরা গত ৫০ বছর ধরে ভোট দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে যা বোঝায় তা আমাদের ভাগ্যে এখনো এতটুকুও জোটেনি।’

খেদোক্তির সুরে কথাগুলো বলেন মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৈণ্যাতলী ও গোবিন্দপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ।

ফতেপুর ইউনিয়নে গ্রাম দুটির অবস্থান মির্জাপুর উপজেলার একবারে সীমান্তবর্তী এলাকায়। গ্রাম দুটির উত্তরে বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের মটেশ্বর গ্রামের শুরু।

গোবিন্দপুর গ্রামের খুশি মোহন সরকার, যতীন্দ্র মোহন সরকার, সন্ন্যাসী মণ্ডল, কৃষ্ণ সরকার, বৈণ্যাতলী গ্রামের সাধন মণ্ডল, মনোরঞ্জন সরকার, অখিল সরকার ও সন্তোষ মণ্ডলসহ অনেক গ্রামবাসী জানান, ফতেপুর বাজার থেকে তাদের এখনো জমির আইল দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ ছাড়া যদি কেউ মির্জাপুর উপজেলা সদর থেকে রামপুর দিয়ে বংশাই নদী পার হয়ে গ্রাম দুটিতে যেতে চায় তাহলেও তাকে জমির আইল দিয়েই যেতে হয়।

আরও জানান, নিচু এলাকা হওয়ায় জ্যেষ্ঠ মাসের শেষের দিকে জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। যা অগ্রহায়ণের আগে শুকায় না। ফলে রাস্তাঘাট না থাকায় বছরের ছয় মাসই পানির ওপর দিয়ে তাদের চলাফেরা করতে হয়।

গ্রাম দুটিতে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এলাকার অধিকাংশ শিশু-কিশোর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক অভিভাবক যাতায়াতের এই দুরবস্থার মধ্যেও সন্তানদের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দুরে ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ যায় চার কিলোমিটার দূরের পাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

গ্রাম দুটির বাসিন্দারা জানান, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ব্যক্তিরা গত ৫০ বছর ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

ফতেপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ইব্রাহীম সিকদার বলেন, আমাদের জন্য এটা লজ্জাকর ঘটনা। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও গ্রাম দুটিতে যাতায়াতের এই দুরবস্থা সবার কাছেই পীড়াদায়ক বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে ফতেপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন তালুকদার বলেন, গ্রাম দুটির সব ভোট যদি আমাকে দেয় তবে আমি নিজ অর্থায়নে আগামী বছর রাস্তা করে দেব।

অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী হাজী আব্দুর রউফ বলেন, কোদাল ও টুকড়ি দিয়ে মাটি ফেলে রাস্তা করা সম্ভব নয়। রাস্তা করতে হলে ভেকু দিয়ে মাটি ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই রাস্তা করা সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, আগামী ১৫ জুন ফতেপুর ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হলে আগামী সেপ্টেম্বর- অক্টোবরের বাজেটে ওই গ্রাম দুটির রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত