বাজেট প্রতিক্রিয়া

‘অখুশি থাকার’ কারণ নেই শিক্ষামন্ত্রীর, ‘খুবই খুশি’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ১১:৪৪ পিএম

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী্ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, অখুশি থাকার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাত যেন আরও শক্তিশালী হয়, বাজেটে সে বিষয়ের প্রতিফলন হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্যে ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। তাতে আমরা ‘খুবই খুশি’।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ গতবারের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

তিনি বলেন, কাজেই অখুশি থাকার কোনো ধরণের কারণ থাকতে পারে না। আমাদের গবেষণায় বাজেট বেড়েছে। উন্নয়নে বাজেট ৭ ভাগ বেড়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৯ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এই অঙ্ক মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ ছিল ৯৪ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। সেই হিসাবে নতুন অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ১ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ২৮টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সামগ্রিকভাবে দেখলেও সেখানে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ মূল লক্ষ্যই আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়ন।

ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও নতুন বছরের যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটিকে ‘জনকল্যাণমুখী ও সময়োপোযোগী’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, বাজেটের প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গবেষণা, অসংক্রামক রোগ, টিকা উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড নিয়ন্ত্রণে যেন আমরা কাজ করে যেতে পারি, স্বাস্থ্য খাত যেন আরও শক্তিশালী হয়, সে বিষয়ের প্রতিফলন হয়েছে বাজেটে। এক কথায় আমরা বলতে পারি, আমরা সন্তুষ্ট।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সন্তুষ্টির তো শেষ নাই, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আমি মনে করি, আমাদের যখন যেটার প্রয়োজন হবে, অর্থমন্ত্রী, অর্থ সচিব, ওনারা সহায্য-সহযোগিতা করবেন।

স্বাস্থ্যের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের কর কমিয়ে দেয়ায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ হিসাবে স্বাস্থ্য খাত বরাদ্দ পেয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটেও এই হার একই ছিল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত