কর্ণফুলী নদীতে ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী খনন প্রকল্পে বিতর্কিত জমিতে বাঁধ তৈরি করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদী খননের বালু ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে কৃষকদের ফসলি জমিতে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে নাব্য রক্ষার জন্য ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ছয়টি প্রকল্পে বিভক্ত করে কাজ বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে চলছে নানা কারচুপি। প্রকল্পে তীর সংরক্ষণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তলদেশ খননের কাদামাটি ও বালু রাখার স্থান নেই। সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনে নদীতীরের অদূরে কদমতলী বিলের ফসলি জমিতে নদী খননের বালু ও কাদামাটি ফেলার প্রক্রিয়া চালায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাতে কৃষকরা বাধা দেন। কৃষকদের দাবি, অপরিকল্পিত নদী খনন প্রক্রিয়ায় তাদের ধানিজমি নষ্ট ও অনাবাদি হয়ে যাবে।
কৃষক দীপক দাশ জানান, কর্ণফুলী সেচ প্রকল্পের মেইন পাম্পিং প্ল্যান্টের কাছে ফসলের আবাদ ছাড়াও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গুমাই বিল। যার অধিকাংশ জমি চাষাবাদের। এছাড়া বীজতলা ও মৌসুমি ফসলের চাষাবাদ হয় কদমতলী বিলের জমিতে। এসব জমি নষ্ট হয়ে গেলে গুমাই বিলে চাষাবাদে প্রতিকূলতা দেখা দেবে। সহস্র একরের জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। শত শত প্রান্তিক কৃষক পরিবার হয়ে যাবে নিঃস্ব। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ প্রকৌশলী শোভন আলী জানান, পাউবোর অনুমতি নিয়ে কদমতলী বিলের ফসলি জমিতে নদী খননের মাটিযুক্ত বালু ফেলার প্রক্রিয়া চলছিল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সরোয়ার আলম শাহীন জানান, প্রকল্পের খননকৃত কাদামাটি ও বালু তীর সংরক্ষণ কাজে ব্যবহারের নির্দেশনা নেই। তাই এসব নদীর তীরের কাছে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকিতে নিয়োজিত পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শামশুল আরেফিন বলেন, ইস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে পাউবোর ‘অধিগ্রহণকৃত’ কিছু ফসলি জমিতে নদী খননের কাদামাটি ফেলার সুবিধা দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা দেওয়ার বিবেচনা করা হয়েছিল। এতে কোনো কারচুপি ছিল না।
কদমতলী বিলের কৃষক মাস্টার মধুসূদন ঘোষ জানান, ১৯৮০ সালে গুমাই বিলের ১২ একর জমি পাউবোর অনুকূলে অধিগ্রহণ করা হয়। যার শতভাগ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়নি। অধিগ্রহণের রেকর্ডও চূড়ান্ত হয়নি। কৃষকরা ওই জমি ফেরত চেয়ে ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছেন।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, রাঙ্গুনিয়ার কদমতলী বিলের ফসলি জমিতে নদী খননের কাদাবালু ফেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।
