ভারত সরকারের অর্থায়নে সিলেটে বাস্তবায়িত ৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। সুবিধা ভাগাভাগির সম্পর্ক। দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আমরা কারও সঙ্গে সম্পর্ক করি না। অথচ দেশের কিছু মানুষ অপপ্রচার করে বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। এটা কাম্য নয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৭ টাকা লাগে, সেটা আমরা ভারতের কাছ থেকে সাড়ে ৫ টাকায় কিনতে পারি। এখানে তো আমাদের ক্ষতির কিছু নেই। কিন্তু একটি মহল এটাকে ভিন্নভাবে প্রচার করে।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহায়তা করেছে। কিন্তু এ কারণে তাদের কোন খারাপ কাজকে আমরা সমর্থন করবো না। তবে এর অর্থ নয় তাদের সঙ্গে আমরা শত্রুতা করবো। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় রাশিয়াও সহযোগিতা করেছিল। বন্ধুপ্রতীম আরও দেশ আমাদের সহায়তা করেছিল। তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের মধ্যে আন্তর্জাতিক মহাসড়ক হচ্ছে। আমরা এই মহাসড়কে যুক্ত হতে চাই। সম্প্রতি ভারত সফরকালে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তারা অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে। এটা হলে সিলেটের তামাবিল বন্দর দিয়ে ৩টি দেশের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক উন্নতি হবে।
নগরীর ধোপাদিঘিরপাড়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের। সিলেটের প্রকল্পগুলোতে ভারত অংশীদার হতে পেরে গর্বিত।
অনুষ্ঠানে ভারতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ৩টি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো হলো- সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী ধোপাদিঘির সৌন্দর্যবর্ধন, ছয়তলাবিশিষ্ট চারাদিঘিরপাড় স্কুল ভবন ও কাস্টঘরে ক্লিনার কলোনি। প্রকল্প ৩টিতে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ধোপাদিঘির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় দিঘির চারদিকে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে (হাটার রাস্তা), বসার জন্য বেঞ্চ, দিঘিতে নামার জন্য ঘাট ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার নিরাজ কুমার সয়সওয়াল, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক কামাল হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।
এদিকে শনিবার সকালে সিলেট নগরীর চালিবন্দরে ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিতব্য উমেশচন্দ্র নির্মলা বালা ছাত্রাবাসের ৫তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।
