বাগেরহাটে সুপেয় পানির সংকটে কয়েক লাখ মানুষ

আপডেট : ১১ জুন ২০২২, ১১:১২ পিএম

উপকূলীয় বাগেরহাটে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা যাচ্ছে না। জেলার পাঁচটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন আছেন পানির দুর্ভোগে। এসব এলাকার মানুষকে এখন নির্ভর করতে হচ্ছে পুকুর ও বৃষ্টির পানির ওপর।

মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার মানুষজনকে অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে তা পান করতে হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ১৫০টি পুকুর রয়েছে। যেসব এলাকাতে গভীর নলকূপ অকার্যকর সেসব এলাকায় পুকুরের পানিই স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের সাংদিয়া গ্রামে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি পুকুর রয়েছে। এই পুকুরের সামনে সৌরবিদ্যুৎ চালিত একটি পিএসএফ স্থাপন করা হয়েছে। এখানে থেকে অন্তত চারটি গ্রামের মানুষ পানি সংগ্রহ করে তা পান করে থাকেন। এখানকার মানুষের অভিযোগ সরকারি এই পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ চাষের কারণে পুকুরের পানি হয়ে পড়ছে পানের অযোগ্য।

কচুয়ার বাধাল ইউনিয়নের সাংদিয়া গ্রামের বাসিন্দা অমল দাস, দিপালী রাণী বসু বলেন, পুকুরটি যখন নতুন করে সংস্কার করা হয় তখন স্থানীয়দের বলা হয় পুকুরে কোনো মাছ চাষ করা যাবে না। কিন্তু এখানকার স্থানীয় লোকজন তা উপেক্ষা করে পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এই পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হবে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে সরকারের দেওয়া পিএসএফগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন গ্রামের সচেতন বাসিন্দারা।

বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক এই প্রতিবেদককে বলেন, মোংলা, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া ও রামপাল উপজেলায় গভীর নলকূপ অকার্যকর। তাই এসব উপজেলাতে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং স্থাপন করছি। এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে পুকুর পুনঃখননের মাধ্যমে সোলার পিএসএফ স্থাপন করা হয়েছে। এই পুকুরের পানি ফিল্টার করে তা পান করা হচ্ছে। জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় আলাদা আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত