‘মিথ্যা’ মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েকশ মানুষ

আপডেট : ১১ জুন ২০২২, ১১:১২ পিএম

খুলনার বটিয়াঘাটার ৯০টি ভূমিহীন পরিবারকে প্রায় অর্ধশত বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া জমি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী দখলদারদের হুমকি, মামলা ও হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এসব পরিবারের কয়েকশ মানুষ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, সরকারি খাল দখল, ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে, লবণ পানি ঢুকিয়ে ফসলের জমির ক্ষতির পর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের এলাকাছাড়া করছে। দখলদারদের ভয়ে তারা স্থানীয় সাংসদসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। ফলে ভূমিহীন এসব মানুষ আবারও পথে বসার প্রহর গুনছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বটিয়াঘাটার হালিয়া ও বরণপাড়ার কাজীবাছা নদী ভরাট হওয়া খাসজমি নিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৫ সালে হালিয়া ও বরণপাড়া মৌজার প্রায় ৭৫ একর জমি বরাদ্দ পায় ভূমিহীন সমবায় সমিতির ৯০টি পরিবার। এখন তাড়িয়ে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে তারা যেমন এলাকাছাড়া হবেন। তেমনি পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।

ভূমিহীন রফিকুল ইসলাম বলেন, বটিয়াঘাটার ভা-ারকোট ইউনিয়নের হালিয়া ও বরণপাড়ার মৌজার প্রায় ৭৫ একর খাসজমি ১৯৭৫ সালে সমবায় সমিতিকে বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প, বেড়িবাঁধের জন্য কিছু অংশ বাদ যায়। ২০১১-১২ সালে প্রায় ৯০টি ভূমিহীন পরিবারকে ওই জমি স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে ভূমিহীন পরিবারগুলো ওই জমিতে ধান, মৎস্যচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ৩০-৩২টি পরিবার সেখানে বাড়ি করে বসবাসও করছে। কিন্তু বহিরাগত দখলদারদের ভয়ে এখন অনেকেই এলাকাছাড়া।

ভূমিহীন সুধাংশু শেখর ঢালী, জয়নাল হোসেন, শফিকুল, চিন্ময় ঢালী, ফাতেমাসহ অন্যরা জানান, ভূমিহীন পরিবারগুলো দীর্ঘদিন বরাদ্দ নেওয়া জমিতে ধান, মিষ্টি পানির মাছ চাষ করে সহস্রাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ওই জমির পাশে একটি জলমহাল বরাদ্দ নেন সুন্দরবন মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. রুস্তম শেখ। কিন্তু আকস্মিকভাবে মহানগরী খুলনার সামসুর রহমান রোডের মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে হোসেন ইমাম চৌধুরী পল্টু তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে গত ২৯ মে রাতে ওই জমি জবরদখল করে নেন। তার লোকজন খালের মাছ লুটপাট করে। সীমানা বাঁধ কেটে দেয়। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি নিয়ন্ত্রণ গেটের ঢাকনা উঁচু করে লবণ পানি তুলে সমস্ত বন্দোবস্তকৃত জমি লবণ পানিতে তলিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, তার সহযোগী মঞ্জু হাওলাদার বাদী হয়ে বটিয়াঘাটা থানায় একাত্তর বছর বয়সী রুস্তম শেখ, ভূমিহীন সমিতির রফিকুল ইসলাম, সুধাংশু শেখর, এবাদুল শেখ, টুটুল ভদ্র, ফরিদ শেখসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে লুটপাট, অপহরণের মামলা দিয়েছে। রুস্তম শেখসহ কয়েকজন এখনো জেলহাজতে। অব্যাহত হুমকি ও ভয়ে ভূমিহীন পরিবারগুলো পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। যারা সেখানে অবস্থান নিয়েছে তাদের বৈধ কিছু নেই।

তবে, হোসেন ইমাম চৌধুরী পল্টু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মারামারি ও মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি জড়িত নই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত