দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধ সংগঠনের বিষয়ে কোনো ব্যক্তি সরাসরি কারও বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করতে পারবে নাÑ দুদকের এমন বিধি বাতিল প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার ১৩(৩) বিধি কেন দুদক ও ফৌজদারি মূল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
দুদকের বিধিমালা নিয়ে এর আগের একটি রিট আবেদনের ধারাবাহিকতায় করা সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।
আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ছয়জনকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে মামলা গ্রহণ করার ক্ষমতাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ সংশোধন করে ২০১৯ সালের ২০ জুন গেজেট জারি করে দুদক। পরে এ বিধি চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের নভেম্বরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দি দাস ও নওশীন নাওয়াল। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট থানায় মামলা না নিয়ে দুদক কার্যালয়ে এজাহার গ্রহণ করার বিধান কেন বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে নাÑ এ মর্মে রুল জারি করে।
এর ধারাবাহিকতায় দুদক বিধিমালার ১৩(৩) বিধি বাতিল চেয়ে গত ৯ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করেন অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
সুবীর নন্দী দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগের দেওয়া রুলটি বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিধিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি সংক্রান্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিপর্যায়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করা যাবে না। প্রথমে দুদকে অভিযোগ দিতে হবে এবং এটা প্রমাণ করতে হবে যে দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে আবার এটা দুদকেই পাঠাবে। আমরা বলেছি, দুদক এবং ফৌজদারি যে মূল আইন আছে তার সঙ্গে এ ধরনের বিধান সাংঘর্ষিক। কেননা বিধিমালা কখনো মূল আইনের সমকক্ষ নয়। হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন।’
