জাদুটোনা করে পেরু নিউজিল্যান্ডকে প্লে-অফে হারিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে উঠেছিল। এবার আর পারেনি তারা। একমাত্র প্লে-অফে পেরুকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা দেখাল ২০০৬ সাল থেকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য অস্ট্রেলিয়া।
কাতারের আল রাইয়ান স্টেডিয়ামে এশিয়ার পঞ্চম দেশ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার পঞ্চম দেশ পেরুর মধ্যকার ৯০ ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য থাকার পর গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দু’দলই একটি করে শট মিস করলে সাডেন ডেথে নিষ্পত্তি হয় ভাগ্যের। সাডেন ডেথে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের দুই নায়ক দুজনই বদলি হিসেবে নেমেছিলেন খেলতে। কেনিয়ার শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া অ্যাওয়ার মাবিল গোল করে এগিয়ে দেন প্রথমে। পরে পেরুর শট বাঁচিয়ে অ্যান্ড্রু রেডমাইন উৎসবে মাতান সকারুজদের।
গৃহযুদ্ধকবলিত সুদান থেকে পালিয়ে আসা বাবা-মায়ের সন্তান মাবিলের জন্ম কেনিয়ার কাকুমা শরণার্থী শিবিরে, ১৯৯৫ সালে। এক বেলা খেয়ে মাটির ঘরে বেড়ে ওঠা মাবিল শৈশবেই ফুটবল নিয়ে খেলতেন। ২০০৬ সালে বাবা-মাসহ অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমান। সেখানে তার ফুটবলশৈলী প্রস্ফুটিত হতে থাকে। কিশোর বয়সে অ্যাডিলেড ইউনাইটেডে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে যান ডেনমার্কের এফসি মিডটিল্যান্ডে। এখন ধারে খেলছেন তুর্কি ক্লাব কাসিপাসায়। অস্ট্রেলিয়া দলে প্রথম সুযোগ পান ২০১৭’র আগস্টে। প্রথম দুই ম্যাচে বসেছিলেন বেঞ্চে। এরপর প্রায় এক বছর দলের বাইরে ছিলেন। ২০১৮’র অক্টোবরে কুয়েতের বিপক্ষে বদলি হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়ে গোল করেন। ২৭তম ম্যাচেও খেলার সুযোগ পান দ্বিতীয়ার্ধে। বললেন সাডেন ডেথ শট নেওয়ার সময়ই জানতেন গোল করতে পারবেন, ‘আমি জানতাম স্কোর করব। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানানোর এটিই ছিল একমাত্র উপায়। এই দেশ আমাকে, আমার ভাইবোনদের, পুরো পরিবারকে নতুন জীবনের সুযোগ দিয়েছে। সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ।’
মাবিল সাডেন ডেথে গোল করার পর বাকি কাজটা সেরেছেন গোলরক্ষক রেডমাইন। গোল লাইনের সামনে ছোটাছুটি, ক্রমাগত হাত-পা ছোড়াছুড়ি, চোখ পাকিয়ে কোমর নাচানো কিংবা মাঠে অস্থির বিচরণ, অ্যান্ড্রু রেডমাইনের এসব কাণ্ড দেখে যে কারও মনে হতে পারত, ‘পাগল নাকি!’ অথচ সবই ছিল তার চিত্রনাট্যের অংশ। সাজানো নাটক। সেই কৌশল কাজে লেগে যাওয়ায় দারুণ উচ্ছ্বসিত এই গোলরক্ষক। ‘দল চূড়ান্ত হওয়ার আগে সম্ভাব্য টাইব্রেকার পরিস্থিতির কথা সবাই ভেবেছে। সেটা আমার মাথায়ও ছিল। অনুশীলনে প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু দিন শেষে এটা তো ভাগ্য পরীক্ষা। তাই আমি নায়ক নই, শুধু নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেছি।’ আর কোচ আরনল্ড জানিয়েছেন, ‘আমি ওদের (পেরু) মানসিকভাবে নড়বড়ে করতে চেয়েছি। ওরা ভাবতে পারে, ওকে কেন নামাল, নিশ্চয়ই ভালো! এসব ভেবেই ওরা হয়তো পোস্টে মেরেছে। পেরুর হয়ে পেনাল্টি যারা নেবেন, তাদের সমস্যায় ফেলতে এটা ছিল মানসিক একটি চেষ্টা। হ্যাঁ, ঝুঁকি ছিল কিন্তু কাজে লেগেছে।’ রেডমাইনও বলেন কৌশলটির কথা।
এশিয়ার পঞ্চম দেশ হিসেবে চূড়ান্তপর্বে ওঠা অস্ট্রেলিয়ার কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ ২২ নভেম্বর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের বাকি প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক ও তিউনিসিয়া।
