অ্যান্টিগা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে চা বিরতির আগেই চার উইকেট হারিয়ে দুইশ’ পার করে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর অবশ্য বেশিদূর এগোতে দেয়নি বাংলাদেশ। এর পুরো কৃতিত্ব মেহেদি হাসান মিরাজের।
৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংস ২৬৫ রানে বন্দী করে ফেলেন এই অফ-স্পিনার। ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তার জন্য মিরাজ কৃতিত্বটা দিয়েছেন তার দুই সতীর্থ মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামকে।
চা বিরতির পর গুটিয়ে যায় উইন্ডিজ। তাতে তাদের লিড ১১২ রান। তবে দিনের সব আলো কেড়ে নেন মিরাজ। ৫৯ রানে নেন ৪ উইকেট। তাতেই সফরকারীদের লড়াইয়ে ফেরার পথ খোলে দেন।
প্রথমদিন উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় দিন সফল মিরাজ। আর তার জন্য ধন্যবাদটা মুমিনুল ও তাইজুলকে দিলেন তিনি, ‘আমি প্রথম দুই-তিন স্পেলে হতাশ হয়েছিলাম। কারণ আমি ঠিক জায়গায় বল করতে পারছিলাম না। আমার মনযোগের দরকার ছিল এবং সতীর্থ মুমিনুল ও তাইজুল আমাকে সহায়তা করেছে। তারাই আমাকে ঠেলেছে এবং আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এই দুজনের কাছে। তারাই আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।’
২ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে উইন্ডিজ। দিনের প্রথম উইকেট হিসেবে এনক্রুমাহ বোনারকে বোল্ড করেন সাকিব আল হাসান। স্বাগতিকেরা শেষ ৭ উইকেট হারায় ৬৮ রান করতেই। তার মধ্যে ৬ রান দূরে থাকা ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের সেঞ্চুরি কেড়ে নেন পেসার খালেদ আহমেদ। উইন্ডিজের শেষ ৬ উইকেটের চারটিই গেছে মিরাজের ঝুড়িতে।
কীভাবে সফল হলেন, দিন শেষে তার ব্যাপারেও জানালেন এই স্পিনার, ‘আমি মনে করি, উইকেট অল্প স্লো, এটাই ভালো হয় সব সময় আপনি যদি ঠিক জায়গায় বল ফেলেন। ব্যাটসম্যান অবশ্যই সুযোগ দেবে। তাই আমি ডট বল খুঁজছিলাম। কারণ প্রথম দুই বা তিন স্পেল আমি উইকেট পেতে চেষ্টা করছিলাম এবং তাতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে আমি রান কম দেওয়ার চেষ্টা করি।’
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া টাইগাররা এখনো পিছিয়ে ১১২ রানে। বাংলাদেশকে বড় লিড পেতে হলে কী করতে হবে তার ব্যাপারেও জানিয়েছেন মিরাজ, ‘আমরা বলের পর বল খেলতে চাই। টপ-অর্ডার ব্যাটারদের শতরানের জুটি গড়তে হবে। এটাই আমাদের সুযোগ দিতে পারে। আমরা আজ সারাদিন এবং আগামীকালও ব্যাট করার চিন্তা করছি। ভালো খেললে সুযোগ আসবে।’
কিন্তু বোলিংয়ে জ্বলে উঠলেও ব্যাটিং ভালো হয়নি মিরাজের। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে তিনে নেমে মাত্র ২ রানে ফেরেন তিনি। প্রথম ইনিংসেও হাসেনি তার ব্যাট।
