আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক

আপডেট : ১৯ জুন ২০২২, ১১:০৫ পিএম

আপনি কি আল্লাহতায়ালাকে ভালোবাসেন? যেকোনো মুসলমানের উত্তর হবে-হ্যাঁ, আমি সৃষ্টিকর্তা ও দয়াময় আল্লাহকে ভালোবাসি। কিন্তু আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আমরা কীভাবে প্রকাশ করছি? আল্লাহর সঙ্গে আমাদের ভালোবাসার ভাষা কী?

আপনি লক্ষ্য করতে পারেন, আমাদের হৃদয় যেকোনো এক ধরনের ইবাদতের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। অন্য কথায়, যে কোনো এক ধরনের ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিছু কিছু সাহাবি ছিলেন, যারা সত্যিই ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে এমন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ঠিক কোনো ইবাদত, দোয়া কিংবা আমল করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, দোয়া কবুল হবে এ বিষয়ে তারা অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন। এটিকে আল্লাহর সঙ্গে তাদের এক ধরনের ভালোবাসা কিংবা আবেগের ভাষা হিসেবে ধরা যায়।  ঠিক এভাবে আমাদেরও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সম্ভাব্য, সত্যিকার এবং সহজ পথটি নিজেদের জন্য খুঁজে বের করে নিতে হবে। আমরা সব রকম ইবাদতের পাশাপাশি যে কোনো একটি প্রিয় ইবাদত বেশি করে পালন করব। কারণ, সেই একটি কাজ কিংবা ইবাদতের মাধ্যমে হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভূত হয় এবং আল্লাহর নৈকট্যও লাভ করা যায়। যেমনÑ

আল্লাহর প্রশংসা বাণী : সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, আর আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দিন) নিশ্চয় আমি অতি কাছে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। কাজেই তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ইমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। বান্দা যখন তাকে ডাকে তখন আল্লাহ ভালোবাসেন। আল্লাহর কাছে দোয়ার আদব (শিষ্টাচার) হলোআল্লাহর প্রশংসা বাণী দিয়ে শুরু করা। অর্থাৎ তার মহিমা ঘোষণা করা এবং তার নাম দিয়ে তাকে ডাকা।

বান্দার হক আদায় করা : সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ার কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করতে সাহায্য করেন, আল্লাহ তাকে আখিরাতের কঠিন কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি দেবেন ...।’সহিহ্ মুসলিম

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা তোমাদের আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।’সুরা আদ দাহর : ৯

আল্লাহর অবারিত রহমত ও ভালোবাসার প্রকাশ হলোতিনি আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন কোনো অভুক্তকে আহার করানোর। পাশাপাশি অভুক্তদের প্রতিও এটা আল্লাহর রহমতের একটি মাধ্যম, তিনি আমাদের উসিলায় তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।

দান-সদকা : করুণাময় আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং আল্লাহর সন্তোষ লাভের খুব সহজ একটি আমল হলোদান-সদকা করা। সুরা বাকারার ২৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, কে সে, যে আল্লাহকে করজে হাসানা প্রদান করবে? তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন। আর আল্লাহ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তার দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

দান-সদকার মাধ্যমে যেমন দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তোষ ও রহমত পাওয়া যায়, তেমনি পরকালেও প্রতিদান পাওয়া যায়। হজরত আয়েশা (রা.) কাউকে সদকা দেওয়ার আগে সেটিকে উপহারের মতো সুগন্ধি দিয়ে দিতেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, এটি আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে জেনে তিনি এমনটি করেছিলেন। আল্লাহ বলেছেন, যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তাদের প্রতিদান তাদের রবের কাছে রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

তাহাজ্জুদ আদায় : তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য মেলে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কে একটি বিশেষ ইবাদত পালনের পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলোতাহাজ্জুদ নামাজ। মহান আল্লাহর কাছে একজন বান্দার পক্ষ থেকে সবচেয়ে পছন্দনীয় ইবাদতগুলোর একটি হলোফজরের আগে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা।

কোরআন মজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা : পবিত্র কোরআন আল্লাহর বাণী ও বিধান। তাই কোরআন মজিদ বুঝে পড়া, মুখস্থ করা ও তার আমলের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করা।

শেষ কথা : যে কয়টি আমল ও ইবাদতের কথা এখানে বলা হয়েছে, এখান থেকে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে; কোন ইবাদতের মাধ্যমে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে পারি। সেই ইবাদত পালনের মাধ্যমে আমরা দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালে নাজাত পাব, মিলবে আল্লাহর ভালোবাসা ও অপার রহমত। আর মহান রবের ভালোবাসা আর সন্তুষ্টির তো আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত