সেতু নিয়ে আমার জবানবন্দি

আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ০৫:৪৭ এএম

আপনারা জানেন, আমি পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি পর্যায়ে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং অপমানের তীর সরাসরি আমাকে আঘাত করেছিল। আমার কাজকে বিতর্কিত এবং আমার আন্তরিকতা ও সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। অবশ্য পরবর্তীকালে দুদকের তদন্ত ও কানাডার আদালতের রায়ে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র ও অপবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ছিল পদ্মা সেতুর নির্মাণ বিলম্বিত করা। দেশের মানুষের আকাক্সক্ষাকে বিনষ্ট করা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করেই সরকারের সততা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তুতিপর্বে সরকার এবং যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আমার যে কোনো অনিয়ম ছিল না তাও তিনি প্রমাণ করেছেন। পদ্মা সেতুর এ সাফল্য এককভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও ভিত্তিহীন অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত করে আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। এই সেতু দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রাক্কালে তাই আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমার বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল সেসব ছিল ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক ও সম্পূর্ণ অসত্য। আপনারা জানেন, দুই বছরে আমি পদ্মা সেতুর প্রস্তুতি কাজ শেষ করে এনেছিলাম। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ যাবতীয় আনুষঙ্গিক কাজ এবং মূল সেতুর দরদাতা প্রাক-যোগ্য নির্বাচন যথানিয়মে, বিশ্বব্যাংকের অনুমোদনে এগিয়ে এনেছিলাম। নিজস্ব অর্থায়নে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজে দাতাসহ সব মহল সন্তুষ্ট ছিল। শুধু মূল সেতুর প্রাক-যোগ্য দরদাতা নির্বাচনে বিশ্বব্যাংকের একটি তদবির অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি কার্যকর করতে অপারগতা প্রকাশ করার পরই বিশ্বব্যাংকের ধীরগতি পরিলক্ষিত হয় এবং আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

বিশ্বব্যাংক টিইসি নির্বাচিত ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে প্রাক-যোগ্য দরদাতা China Constructioin Communication Company (CCCC)-কে বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্তির কারণে বাদ দিতে বলে এবং একটি প্রাক-যোগ্যতায় অযোগ্য দরদাতা Construction Company (CRCC)-কে Qualify করতে বলে। কারিগরি কমিটি প্রাক-যোগ্য কোয়ালিফাইড দরদাতাকে বিশ্বব্যাংকের তালিকাভুক্তির কারণে বাদ দেয়। কিন্তু প্রাক-যোগ্য ডিসকোয়ালিফাইড দরদাতাকে অভিজ্ঞতার জাল সার্টিফিকেট দেওয়ায় কোয়ালিফাই করতে অস্বীকৃতি জানায়। ডিসকোয়ালিফাইড দরদাতাকে কোয়ালিফাই করার জন্য বিশ্বব্যাংক একাধিকবার তদবির করে। কিন্তু টিইসি তাকে যোগ্য করতে শেষাবধি অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীকালে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়ার আশঙ্কায় ঈজঈঈ দরপত্র প্রত্যাহার করে নেয় এবং ঈজঈঈ-কে যোগ্য করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই বিশ্বব্যাংক এবং ঈজঈঈ এর স্থানীয় প্রতিনিধি আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতে থাকে এবং স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে একটি অশুভ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ভিত্তিহীন ও বানোয়াটই ছিল না, তা ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত। যার ভিত্তি ছিল গালগল্প আর গুজব। এখানে বিন্দুমাত্র সত্য ছিল না, ছিল না কোনো বিবেচনাবোধ আর নৈতিকতা। পদ্মা সেতু নির্মাণের কোনো ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, কিংবা কোনো অর্থও ছাড় হয়নি, এই পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বিশ্বব্যাংকের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের একটি কূটকৌশল মাত্র। পরবর্তী সময়ে দুদকের তদন্ত এবং কানাডার আদালতের রায়ে আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা হলে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ যে মনগড়া ও অসত্য তা প্রমাণ হয়। 

পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তাই যোগাযোগমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার প্রথম দিন থেকে আমি পদ্মা সেতু নির্মাণে মনোযোগী হই। পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরামর্শক নিয়োগে দরপত্র আহ্বান, মূল সেতুর প্রাক-যোগ্য দরপত্র আহ্বান এবং সেতুর অর্থায়ন সংস্থাবিশ্বব্যাংক, জাপানের জাইকা, ইসলামি উন্নয়ন সংস্থা এবং এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিই। স্বল্প সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ করি। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ যাবতীয় কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসি। এমনকি প্রাক-যোগ্য দরদাতা নির্বাচন প্রক্রিয়াও শেষ করি। যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রস্তুতি কাজ করতে ১০ বছর লেগেছে, সেখানে মাত্র দুবছরে আমরা পদ্মা সেতুর প্রস্তুতি কাজ শেষ করেছি। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ হবে, এটাই ছিল আমার মূল টার্গেট। এ টার্গেট নিয়েই দ্রুততার সঙ্গে আমি কাজ এগিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলাম। এ পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইডিবির নিকট পদ্মা সেতুর পুনর্বাসন প্রকল্প ও কাজের অগ্রগতি প্রশংসিত হয়। কাজের দ্রুত অগ্রগতি, গুণগতমান এবং স্বচ্ছতা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়।

বিশ্বব্যাংক আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর অন্যায় চাপ দেয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, তৎকালীন সেতু বিভাগের সচিব এবং আমাকে অ্যারেস্ট করার কথা বলে। আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করেন। সার্বিক বিবেচনায়, দেশের স্বার্থে, পদ্মা সেতুর স্বার্থে আমি নিজেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করি। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ ও নানা বিতর্ক এড়াতে আমি যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে সরে আসার পরও কিন্তু বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়নে এগিয়ে আসেনি। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

এখানে উল্লেখ করা যায় যে, দেশের অনেক গণমাধ্যম পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অসত্য ও ভুয়া অভিযোগ উপজীব্য করে আমার বিরুদ্ধে ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বেনামি চিঠির ভিত্তিতে বারবার একই বিষয়ে প্রতিবেদন করেছে। চ্যানেলগুলোয় খবরের কাগজগুলোর রিপোর্টকে উপজীব্য করে টকশোতে বুদ্ধিজীবীরা অবিবেচকের মতো অশোভন কথা বলেছে। শোনা কথার ওপর নির্ভর করে বিবেচনাহীনের মতো অসত্য কথাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। পত্রিকা প্রতিবেদন তৈরির সময় সত্য-মিথ্যা যাচাই করেনি। কীভাবে, সঠিক পথে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়েছে তা তারা জানারও চেষ্টা করেনি। এ বিষয়ে তাদের ন্যূনতম জ্ঞানও ছিল না। তবু এমনভাবে কথা বলেছে যেন তারা বিশেষজ্ঞ।

আবার পত্রিকাগুলো কারিগরি কমিটির মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম হয়েছেএ বিষয়ও কিছু বলতে পারেনি। প্রাক-যোগ্য ঠিকাদার নিয়োগে কারিগরি কমিটিই এনটিটি। আমি শুধু কারিগরি কমিটির সিদ্ধান্তকে বিশ্বব্যাংকে অগ্রায়ণ করেছি। বাতাসের ওপর ভর করে আমার বিরুদ্ধে নানা অসত্য রিপোর্টকে পুঁজি করে পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেছে। নানা কারণে প্রভাবিত হয়ে বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্রে হাত মেলাতে গিয়ে একবারও ভাবেনি পদ্মা সেতু দেশীয় সম্পদ। এর বাস্তবায়ন অসত্য ও ভিত্তিহীন অজুহাতে বাধাগ্রস্ত হলে দেশের ক্ষতি হবে। অনেক সময় ভাবি, দেশের পত্রিকাগুলো কি ষড়যন্ত্রের সাথে আপস করে, কিন্তু কেন? তারা এদেশের সন্তান। তাহলে আমাকে অসত্য ও ভিত্তিহীন অজুহাতে নাজেহাল করতে গিয়ে দেশের ক্ষতি হচ্ছেএটা কি তারা বুঝতে অক্ষম ছিলেন? ষড়যন্ত্রকারীরা ২০১৩ সালে ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকার যাতে পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ করতে না পারে এবং পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের ‘বিজয় নিশান’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে না ওড়ে সে ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত করেছিল।

আমি প্রায় তিন বছর যোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম। তিন বছর আমি প্রচুর পরিশ্রম করেছি। সরকারি প্রকল্পের জন্য প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য মবিলাইজ করেছি। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ এবং বর্তমান রেল মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নে নানা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন সেতু বিভাগের বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায় করা ছাড়া কোনো কাজ ছিল না। আমি দায়িত্বে এসে সেতু বিভাগের কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করি।

মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে টানেল নির্মাণ, গুলিস্তান লেচু শাহের মাজার হতে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণসহ ১১টি প্রকল্প গ্রহণ ও কিছু কিছু প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন শুরু করি। আমি যোগাযোগমন্ত্রী থাকলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পয়েন্টেও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এতদিনে বাস্তবায়িত হতো। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিডারস ফাইন্যান্সিং-এ সেতু নির্মাণের সারসংক্ষেপ অনুমোদন দিয়েছিলেন। সড়ক বিভাগের অধীনে ১৬০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৪৪টি অগ্রাধিকার প্রকল্প। অনুরূপভাবে রেলওয়ের উন্নয়নে ৪৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর অনেকগুলোর কাজ বাস্তবায়নাধীন ছিল।

আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আমি তিন বছরে যে কাজ করে দিয়ে এসেছি, যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছি, সেসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, অগ্রগতি হয়েছে, সে কাজ ১০০ বছরের ভেতরে পাঁচ বছর মেয়াদি কোনো সরকার উদ্যোগ নিতে পারেনি। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আমি সেসব প্রকল্প গ্রহণ করেছি, বাস্তবায়ন করেছি তা হবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি মাইল ফলক এবং একটি ঐতিহাসিক দলিল।

এ কথা সত্যি, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করা ছিল বিশ্বব্যাংকের একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর মতো একটি বড়ো প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ হারাল। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় আলোচনা না করে এবং বোর্ড সভার অনুমোদন না নিয়েই, নিজ উদ্যোগে কারও অন্যায্য নির্দেশে প্রভাবিত হয়ে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তাই অর্থায়ন স্থগিতের বিষয় সমর্থন করেননি। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিকের সাথে চায়নায় বোয়াও ফোরামে এক অনুষ্ঠানে আমার সাক্ষাৎ ও পরিচয় হয়। তখন তিনি পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিল করার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তখন আমি নিশ্চিত হই যে, তিনি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন অনৈতিক কাজ করেছেন। রবার্ট জোয়েলিকের মতো বিশ্বব্যাংকের হাতে গোনা কিছু কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু অর্থায়ন না করার দায় বিশ্বব্যাংককে নিতে হলো।

উপরোক্ত পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন করেই প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘সৈয়দ আবুল হোসেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তিনি দেশের স্বার্থেই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংক ঋণ দিক আর না দিক সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেবে।’ আমার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এমন উঁচুমানের ইতিবাচক ধারণার প্রকাশ্য স্বীকৃতি আমার জীবনে পাওয়া সেরা উপহার এবং সেরাপ্রাপ্তি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি চিরঋণী। কথাটি মনে পড়লে আমি তার মহানুভব স্বীকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা-আপ্লুত অনুভাবনায় মিথ্যা অপবাদের সব কষ্ট ভুলে যাই।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন। আর বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নপূরণের এই পদ্মা সেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার। এ স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে শতভাগ সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে আমি প্রস্তুতিপর্বে দিনরাত কাজ করেছি। এতে আমি কোনো অনিয়ম করিনি। এতদসত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা যে অপবাদ আমাকে দিয়েছে তা ছিল অসত্য। আজ সকল অপবাদ ও অপমানের জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান।

পদ্মার দু’পাড়কে যুক্ত করে পদ্মা সেতু শুধু সমগ্র বাংলাদেশ নয়, এশিয়াসহ ইউরোপে যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতীক। আমাদের গর্ব ও অহংকারের প্রতীক। সক্ষমতার প্রতীক। পদ্মা সেতু আমাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। বিশ্বব্যাংকের প্রতি সমুচিত জবাবের প্রতীক। পদ্মা সেতু সততার প্রতীক। আসুন, আমরা জাতি-ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করি এবং সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার সাথে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করি।

লেখক : প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, বিশিষ্ট শিক্ষা উদ্যোক্তা ও লেখক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত