নড়াইলে পুলিশের সামনে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে অপদস্থের ঘটনার নয় দিনের মাথায় থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মুরসালিন বাদী হয়ে ১৭০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন বিছালী ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মির্জাপুর বাজারের মোবাইল ফোন মেকার শাওন (২৮), মির্জাপুর গ্রামের অটোচালক রিমন (২২) এবং একই গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (২৭)।
মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে ভারতে বিতর্কিত মন্তব্য করা নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘প্রণাম’ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। এ পোস্ট দেওয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসেন রাহুল। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি চার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ ছাত্র-জনতা আহত হন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনার দিন ১৮ জুন বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অধ্যক্ষের মেয়ে শ্যামা বিশ্বাস জানান, এ ঘটনার পর বাবা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন না। এ ছাড়া তার ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার (২৭ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি শওকত কবির বলেন, তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা কেউ ছাড় পাবে না। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
