অর্থের বিনিময়ে মহাসড়ক অতিক্রম করে ১১ কেভি বিদ্যুতের লাইনের খুঁটি বসানো হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে রাতের আঁধারে স্থাপিত খুঁটিটি গোড়া থেকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। অপসারণ করা হয়েছে বিদ্যুতের তার ও খুঁটিতে স্থাপিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। খুঁটি ভেঙে নামানোর সময় এক শ্রমিক আহতও হয়। নেত্রকোনা পৌরশহরের পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মাণাধীন সমাজসেবা ভবনের সামনে বিদ্যুতের এ খুঁটি কেন বসানো হলো, আবার কেনইবা ১১ কেভি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খুঁটিটি ভেঙে ফেলা হলো রাষ্ট্রের এ ক্ষতির সঙ্গে কারা জড়িত এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোরের আগেই খুঁটিটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খুঁটি ভেঙে নামানোর সময় আহত শ্রমিকের নাম স্বাধীন (৩০)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। ‘এমআরএম’ নামে বিদ্যুতের ঠিকাদারি ফার্মের শ্রমিক হিসেবে নেত্রকোনাতে কাজ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাজসেবার নতুন ভবনের সামনে বিদ্যুতের খুঁটিটি মাটির ওপর অংশ থেকে ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে। খুঁটির গোড়ার অংশ মাটি ও বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সমাজসেবা ভবনের পূর্বদিকে মহাসড়ক অতিক্রম করে পেট্রোল পাম্প থেকে নেওয়া সংযোগের খুঁটিতে (১১ কেভি) তিন তারের ফিটিংস ঝুলে রয়েছে। এই খুঁটি থেকে ভবনের সামনে ভাঙা খুঁটি পর্যন্ত তার অপসারণও করা হয়েছে। বুধবার রাতে ভাঙা খুঁটিটি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার তা সরিয়ে ফেলা হয়।
স্থানীয় মা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সুভাষ দাশ জানান, এক সপ্তাহ আগে সমাজসেবা ভবনের সামনে খুঁটিটি বসানো হয়। পেট্রোল পাম্পের সামনে ১১ কেভি লাইনের খুঁটি থেকে স্থাপিত খুঁটিতে ফিটিংস ও তারও সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ বুধবার বিকেলের দিকে তার খুলে ফেলা হয়। পরে খুঁটিটিও তুলে ফেলা হয়েছে। খুঁটিটি ভেঙে রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হলো। এটা যদি অবৈধভাবে করে থাকে তাহলে জড়িতদের খুঁজে বের করা দরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুতের এক শ্রমিক জানান, ১১ কেভির একটি খুঁটি বসিয়ে তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে নেত্রকোনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এলাহী ৮ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এই অর্থ থেকে বিদ্যুতের ঠিকাদার ‘এমআরএম’ ফার্মের দায়িত্বরত শাওন ও রহমানকে টাকা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের দিয়ে কাজটি করান। ঠিকাদারি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তুহিন বিষয়টি জানতে পারলে ফার্ম কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে এমন আশংকায় তার লোকজনদের চাপ প্রয়োগ করেন। পরে তারা নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানালে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দেন। বুধবার বিকেলে তার ও ফিটিংস খুলে লাইন অপসারণ করা হয় এবং রাতে গোড়া থেকে ভেঙে খুঁটি নামিয়ে ফেলেন শাওন ও রহমানের শ্রমিকরা।
এ নিয়ে ঠিকাদারি ফার্মের শাওনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অফিসের ঊর্ধ্বতনরা যেভাবে হুকুম করেন আমরা সেভাবে কাজ করে থাকি।’ টাকা লেনদেনের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রমাণ দেখাতে পারবেন। জানা ও বলার থাকলে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলেন।’
নেত্রকোনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মো. এলাহী অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে তো মাত্রই শুনলাম। কে বা কারা করেছে জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখতে যাব।’
