বানের পানি সবকিছুর সঙ্গে নিয়ে গেছে ঈদ আনন্দও

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ১২:১৭ এএম

পাহাড়ি ঢলের পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতি হলেও বন্যাদুর্গতদের মধ্যে নেই ঈদের আনন্দ। ভয়াবহ বন্যায় তাদের সব স্বপ্ন ভেসে গেছে। সাজানো ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, গোলাভরা ধান সব হারিয়ে তারা এখন রীতিমতো নিঃস্ব। জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ কোরবানির পশু নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বন্যদুর্গতরা ব্যস্ত বানের পানিতে মরে যাওয়া গবাদিপশুর পচা-গলা দেহাবশেষ সরাতে। বন্যাদুর্গতরা বলছেন, বন্যার কারণে এলাকার শত শত মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এলাকায় ঈদের আনন্দ নেই। আছে ক্ষুধার তাড়না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই দফা বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলার বন্যার্ত মানুষের মধ্যে সবকিছু হারানোর আহাজারি। বন্যায় আক্রান্ত এলাকার মানুষ চরম সংকটে জর্জরিত। দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা থেকে শিগগির রেহাই পাওয়ার আশাও নেই হাওরবাসীর। বন্যার করাল গ্রাসে ছোট-মাঝারি কৃষক আজ দিশেহারা। তাদের ছেলেমেয়েদের মুখ মলিন।

বন্যার কারণে বেশিরভাগ বাজার ছিল পানির নিচে। সেগুলো পুরোপুরি চালু হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাবেচায়ও হিমশিম  খাচ্ছেন। বন্যার কারণে গবাদিপশুর খাদ্য না থাকায় কোরবানির বাজারে প্রচুর পরিমাণে উঠেছে গবাদিপশু। যার ফলে গবাদিপশুর দাম একেবারে কম। এতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিক্রেতাদের মধ্যে। বন্যার কারণে সব হারিয়ে বাধ্য হয়ে গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ কোরবানি দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড় গ্রামের মুর্শিদ মিয়া বলেন, ‘বন্যায় আমার ঘরের সবকিছু ভাসাইয়া লইয়া গেছে। অহন খাওয়ার মতন কোনো কিছু ঘরে নাই। মানুষে যেইটি দিতাছে হেইটি খাইয়া কোনোমতে দিন কাটাইতাছি। অহন পর্যন্ত আমি সরকারি কোনো সাহায্য পাইছি না। রাত পোহালেই ঈদ, কীভাবে কী করমু ভাইবা পাইতাছি না।’

ইটনার বাদলা গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া, বোরহান উদ্দিন ও আরজু মিয়া প্রতি বছর একটা করে গরু কোরবানি দিতেন। এই প্রথম তারা এই সক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন চরম অর্থ ও খাদ্যকষ্টে দিন পার করছেন তারা।

কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে কোরবানি দিয়ে এলেও এই প্রথম অর্থের অভাবে পারছি না। এই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।’

অষ্টগ্রাম উপজেলার আড়ারপাড় গ্রামের কৃষক কুতুব উদ্দিন, কাস্তুল গ্রামের রজব আলীসহ কয়েকজন জানান, এবারের ঈদে সন্তানদের নতুন কিছু কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের মলিন মুখের দিকে তাকালে বুকটা ভেঙে যাচ্ছে। কারও কাছে হাত পাতার অভ্যাস নেই। অক্ষমতার যন্ত্রণা নিয়ে প্রতিদিন গুমরে মরতে হচ্ছে।’

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতির কারণে এবার জেলায় কোরবানি কম হবে। আমরা বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ দেওয়া অব্যাহত রেখেছি। এছাড়া হাওর অঞ্চলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। শিগগির হাওরবাসীর মলিন মুখে হাসি ফুটবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত