বন্যা আর নদী ভাঙনে কুড়িগ্রামের মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। অনক মানুষজন ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অর্থের অভাবে বন্যা পরবর্তী ঘর বাড়ি মেরামত করতে না পেরে এখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। কেউবা চটের বস্তা, পলিথিন দিয়ে কোন রকম রাত যাপন করছেন। ঘর বাড়ি হারিয়ে অনেকেই এখন আশ্রয়হীন।
সরকারি কিংবা বেসরকারি ভাবে খাদ্যের সহযোগিতা পেলেও আর্থিক সহযোগিতার অভাবে বাস স্থান সংস্কার, খাবার পানি সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যায় ভুগছেন সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চরের প্রায় ৬০টি পরিবার।
সরেজমিনে আজ সোমবার (১১ জুলাই) দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত দ্বীপের মত দেখতে একটি গ্রামের নাম পোড়ার চর। প্রথমের দিকে ৮২টি পরিবার গত আট মাস আগে নদী ভাঙনের স্বীকার হয়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঠাঁই পেয়েছে এই চরে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এবারের বন্যায় শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পরিবারগুলো। চোখের সামনে ঘর-বাড়ি ভেসে যেতে দেখেও তাদের করার কিছু ছিল না বলে জানান বানভাসী মানুষেরা। তাদের এই দুর্ভোগে শুকনো খাবার অনান্য সামগ্রী নিয়ে সরকারি বেসরকারিভাবে সহায়তার হাত বাড়ালেও বিধ্বস্ত পরিবারগুলো ঘর-বাড়ি মেরামতের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করে নাই বলে জানান পোড়ার চরের বাসিন্দারা। তাদের অনুরোধ কয়েকটি টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রেহাই পাবেন তারা।
ওই গ্রামের নায়েব আলী বলেন, বন্যায় আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ঘর-বাড়ি মেরামত করতে পারছি না। টিউবওয়েল মাটির নিচে চাপা পরে আছে। ল্যাট্রিন ভেসে গেছে বানের পানিতে। বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে ঝোপঝাড়ে পায়খানা করছি। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা শিশু বাচ্চাসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি।
আয়না বেগম নামের এক নারী বলেন, নদী থাইক্যা পানি এনে খাই। ভাঙাচুরা ঘর বাড়ি ঠিক করতে পাই না পায়খানা ঘর তুলমু ক্যামনে। বিশেষ করে আমাগোর মত মহিলারা খুবই সমস্যায় আছে। অনেক পরিবারের জন্য একটি মাত্র সংস্থার দেয়া ভাসমান ল্যাট্রিন ছিল সেটাও ভরে গেছে।
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েলের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারে সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় যাদের বাড়ি ঘরের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি যারা নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। আমরা এই তালিকাটা নিরুপন করেছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪৯ ইউনিয়নের দরিদ্রদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে দেড় কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছি তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
