সাত দিন বাইরে থেকে ঢাকায় চামড়া ঢুকবে না, বেরও হবে না: শিল্পসচিব

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২২, ০৮:২৭ পিএম

আগামী সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চামড়া ট্যানারিতে ঢুকবে না এবং ঢাকা থেকে কোনো চামড়া বাইরেও যাবে না বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা, বিভাগসহ ঢাকাতেও সব জায়গায় আমাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে। 

আজ সোমবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত সাভার চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদেরকে এসব কথা জানান তিনি। 

এসময় তিনি আরও বলেন, ঈদ পরবর্তী প্রথম সাতদিন পর্যন্ত শুধু ঢাকার চামড়াই ট্যানারিতে আসবে। এরপর সারা দেশ থেকে মাসজুড়ে লবণমাখা কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হবে। এই সিস্টেম করাতে এবার চামড়া সবাই পেয়েছেন এবং যথাযথভাবে লবণ লাগানো হয়েছে। এছাড়া লবণের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সিন্ডিকেট নেই। 

বিষয়টি তদারকির জন্য যথাযথ মনিটরিং রয়েছে বলেও জানান শিল্পসচিব।

শিল্প সচিব আরও বলেন, সারা দেশে এক কোটি বিশ লক্ষ পশু কোরবানি হওয়ার কথা থাকলেও সারা দেশ থেকে নব্বই লক্ষ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হবে এবার। ইতিমধ্যে ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া আসায় শ্রমিকরা তা কাঁচা লবণ দিয়ে মজুদ করে রাখছে। চামড়ায় ভালোভাবে লবণ লাগাতে ট্যানারি মালিকরা নিজেই উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর ১৩৯টি ট্যানারিতে ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে তিন লক্ষ ৪৫ হাজার কাঁচা চামড়া এসেছে।

সরেজমিনে ট্যানারিগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ট্যানারিতে লবণবিহীন কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে। চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারি শ্রমিকরা। এছাড়া ট্যানারিগুলোর মালিকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণসহ মজুদ রেখেছেন সব ধরনের কেমিক্যাল।

এদিকে কিছু ট্যানারির বর্জ্যের পানি সরাসরি রাস্তায় যাওয়ায় ও ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পরিবেশ অধিদপ্তরকে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ঈদুল আজহার কোরবানিকে ঘিরে প্রায় এক কোটি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ৯০ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া চামড়া পাচার রোধে সরকার নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ট্যানারি মালিকরাও ন্যায্য মুল্য দিয়েই চামড়া কিনছেন ।

চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৬২টি ট্যানারির মধ্যে ১৩৯টি ট্যানারিতে এবার চামড়া আসছে। এছাড়া চামড়া সংরক্ষণে সেখানে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহসহ সব ধরনের সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি ড্রেন সংস্কার আর ট্রাকের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তা পরিদর্শন করছেন যাতে কোন প্রকার কাঁচা চামড়া নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। 

অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের পাশাপাশি কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও ঈদের দিন থেকেই কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন শেডে মজুদ করে রাখছে। তারা গরুর চামড়া সাত’শ থেকে আট’শ টাকা দরে কিনছেন ও ছাগলের চামমড়া দশ টাকা থেকে বিশ টাকা দরে কিনছেন। চামড়ার দাম বেশি হলে তারা এগুলো ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করবেন। তবে যারা কোরবানি করেছেন তারা চামড়ার দাম কম পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

এবছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা। ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ও ঢাকায় বকরি ও খাসির চামড়ার দাম একই থাকবে। তবে প্রতিটি এলাকায় ফরিয়ারা মাত্র দুই থেকে তিনশ টাকা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত