বাংলাদেশকে ফের মাংস আমদানি শুরুর আহ্বান জানাল ভারত

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম

পুনরায় মাংস আমদানি শুরু করার জন্য বাংলাদেশকে আহবান জানিয়েছে ভারত। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহবান জানায় ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস। বর্তমানে মাংস আমদানি বন্ধ থাকায় এই পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িত দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ভারতের দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়।

বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের পশু খামারিদের সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ পশুসম্পদ খাতের বিকাশের জন্য ভারত থেকে হিমায়িত মাংস, বিশেষ করে মহিষের মাংস আমদানি বন্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

ওই চিঠিতে বলা হয়, গত এপ্রিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা আমদানি নীতি-২০২১-২৪ প্রজ্ঞাপন অনুসারে, হিমায়িত মহিষের মাংসসহ (বৌভাইন) সকল ধরনের মাংস আমদানির জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। এ ঘটনায় ভারতের রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশি আমদানিকারক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশর আমদানি নীতির পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক মাসে কোনো হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি না হওয়ায় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

অল ইন্ডিয়ান বাফেলো অ্যান্ড শিপ মিট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইএমএলইএ) এবং বাংলাদেশ মিট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমআইটিএ) বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সমাধানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে হিমায়িত হাড়বিহীন গরুর মাংস আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে এই মাংসের প্রতি কেজির দাম ৪ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলারে দাঁড়ায়। এই নির্দেশনার ফলে সাফটা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভারতের রপ্তানিকারকরা।

সেখানে আরও বলা হয়, ভারতীয় কোম্পানিগুলো উচ্চ মান ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত মাংসের বৃহত্তম রপ্তানিকারকদের তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশে তাদের কোনো প্রতিযোগী নেই।

বাংলাদেশ এখন মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে একটি সূত্র জানায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪টি দেশ থেকে হিমায়ত মাংস আমদানি করতে প্রায় ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। কিছু বিলাসবহুল হোটেল এ মাংস আমদানি করে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে ৮ দশমিক মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন হয়েছে দেশে।

বিশ্বের ১৪টি দেশ থেকে মাংস আমদানি করে বাংলাদেশ, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎস ভারত। অন্যান্য দেশগুলো হলো- ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত