শ্রীলঙ্কার সংসদ শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের মধ্যে দিয়ে শ্রীলঙ্কার জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজাপাক্ষে পরিবারের ২০ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটলো।
তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন করে দেশবাসীর কাছে এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই পরিবারের বিদায় সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছানো গোতাবায়া রাজাপাক্ষের পদত্যাগপত্র শুক্রবার পার্লামেন্ট সদস্যদের উপস্থিতিতে গ্রহণ করা হয়েছে।
স্পিকার আরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী এখন পার্লামেন্ট সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করবেন। সেই সরকারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে আগামী ২০ জুলাই। ততদিন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।
তবে শ্রীলঙ্কার একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সর্বদলীয় সরকারেও প্রেসিডেন্ট পদে রনিল বিক্রমাসিংহের থাকা প্রায় নিশ্চিত।
১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর স্মরণকালের ভয়াবহ অর্থসংকটে পড়া শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বলতে কিছুই নেই। ফলে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতি জরুরি পণ্যও আমদানি করতে পারছে না দেশটি।
চলতি বছর মার্চ থেকেই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে এবং তার বড়ভাই ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনের চাপে গত মে মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। বর্তমানে দেশটির ত্রিকোনমালি শহরে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে সপরিবারে অবস্থান করছেন তিনি।
বড়ভাইয়ের পদত্যাগ করলেও এতদিন গোতাবায়া তার পদ আঁকড়ে ছিলেন। কিন্তু জনবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গত ৯ জুলাই আত্মগোপন করেন তিনি, তারপর ১৩ জুলাই গোপনে সামরিক বাহিনীর বিমানে প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন।
গোতাবায়া রাজাপাক্ষের বিদায়ে উৎফুল্ল শ্রীলঙ্কার আন্দোলনকারী জনগণ। বৃহস্পতিবার রাত থকেই রাজধানী কলম্বো সহ দেশটির প্রায় সব শহরের সড়কে আনন্দমিছিল বের করেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম নেতা ভিরাগা পেরেরা বিবিসিকে বলেন, ‘গোতাবায়ার বিদায়ে আমরা যে কত খুশি, তা বলে বোঝানোর ভাষা নেই। এখন থেকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যাত্রা শুরু হবে’।
বিক্ষোভকারীদের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, প্রেসিডেন্টের সচিবালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাচ্ছি। তবে আমাদের সংগ্রাম চলবে’।
