সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ ভাঙনের দ্বিতীয় দিনে খোলপেটুয়া নদীর লোনাপানি ঢুকে পড়েছে আটুলিয়াসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে। বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর মধ্যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপকূলবাসীর অভিযোগ সর্বত্র শুধু কথার ফুলঝুরি। ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না তাদের কাছে। তাদের প্রবল দাবি, ত্রাণ সহায়তার সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক। তবে প্রশাসন বলছে বাঁধ মেরামত করতে সময় লাগবে। এর আগে গত শুক্রবার সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়।
দুর্গাবাটি গ্রামের খগেন্দ্রনাথ (৭৬) জানান, সুন্দরবন উপকূলের খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে মাছের ঘের, কাঁকড়া খামার, ফসলি জমি, লোকালয় সবকিছু। এসব এলাকায় দ্বিতীয় দিনেও পানির স্রোত ঠেকানো যায়নি। গতকাল দুপুরে প্রবল জোয়ারে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রথম দিনেই তার ঘরবাড়ি লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে। উঠানের ফসল, মাছের ঘের কিছুই নেই, সব পানির নিচে।
এ দুরবস্থার মধ্যেও খগেন্দ্রনাথ প্লাবিত ভাঙা ঘরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি কেন নিরাপদ স্থানে যাচ্ছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আগে দেখে আসেন স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টার তালাবন্দি আছে। সেখানে আমি একা একা গিয়ে কী খাবো, কীভাবে থাকব?’
পোড়াকাটলা গ্রামের সুশেন হালদার জানান, প্লাবিত এলাকায় প্রায় সবার রান্নাবান্নার সব ব্যবস্থা ভেসে গেছে, তারা অভুক্ত। এ লোনা অঞ্চলে তাদের জন্য সামান্য খাদ্য সহায়তা এখনো কেউ দেয়নি।
বেড়িবাঁধ ভাঙার দ্বিতীয় দিনেও এলাকায় সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় এবং জোয়ার এলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় উপকূলবাসী ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন।
পোড়াকাটলা গ্রামের আরতি হালদার জানান, তার বাড়ির মধ্যে লোনা পানি ঢুকে গেছে। সহায়-সম্পদ সব ভেসে গেছে। অথচ প্রশাসন, চেয়ারম্যান কেউ এসে বলে গেল না তোমার পাশে আছি। এসব বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
একই গ্রামের প্লাবনী হালদার জানান, তাদের বাড়িঘরের পাশাপাশি সব টয়লেট নষ্ট হয়ে গেছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় তারা নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকায় পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাঁধ মেরামত অতি দ্রুত সম্ভব না। ভরা কাটাল পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে বাঁধ মেরামতের কাজ হবে। আর টেকসই বেড়িবাঁধ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির জানান, মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় দুর্গাবাটি পোড়াকাটলা গ্রামের উপদ্রুত মানুষদের দেখতে আসেন স্থানীয় এমপি জগলুল হায়দার। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, খাদ্য সহায়তা না পৌঁছানোর বিষয়টি তিনি দেখছেন। দ্রুত যাতে খাদ্য পৌঁছে যায় তার জন্য ইউএনও ও পিআইওকে নির্দেশনা দেবেন।
