ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধর একটি অংশ ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্কুলটি স্থানান্তর না করার দাবি জানিয়ে তাদের যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালে গোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ এলাকায় জগতচন্দ্র মহাজনের দানকৃত জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় মুহুরীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমানে প্রায় আড়াই একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ৩টি ভবনেই স্কুলের পাঠদান চলে আসছে।
কিন্তু একটি কু-চক্রী মহলের ইন্ধনে ২১ মার্চ ইউনিটেক্স গ্রুপের সিএফও মোহাম্মদ আরিফ জেলা প্রশাসকের নিকট স্কুলটি স্থানান্তর করে প্রায় ৬শ মিটার দক্ষিণে নতুনভাবে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেন।
ওই আবেদনে মোহাম্মদ আরিফ কোম্পানির নিয়মিত করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় ওই প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করে নতুনভাবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভবন নির্মাণের অনুমোদন কামনা করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ জুলাই জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার লিজা আক্তার বিথী নির্দেশক্রমে এ বিষয়ে তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা যায় কিনা মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করতে বলা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ, উত্তেজনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রতিবাদকারীদের পক্ষে স্কুলটি পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ শাহজাহান বাকী জানান, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা যাবে না।
এ ছাড়া স্কুলটির দক্ষিণে নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এটি প্রস্তাবিত স্থানে স্কুলটি স্থানান্তর হলে দুটি স্কুল পাশাপাশি হয়ে যাবে। স্কুলে যাতায়াতের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় অত্র এলাকার আগামী প্রজন্ম শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকায় স্কুলটি স্থানান্তরের ষড়যন্ত্র এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
শেখ শাহজাহান বাকী আরও বলেন, স্কুলটি স্থানান্তর হলে জায়গাগুলো দখল ও প্রস্তাবিত জায়গায় ভবন নির্মাণের সময় অবৈধ আর্থিক সুবিধা পাবেন বলেই এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি স্কুলটি স্থানান্তরের পক্ষে সাফাই গাইছেন।
এদিকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জামশেদ আলম বলেন, স্কুল স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের সঙ্গে কেউ আলোচনা করেনি। স্কুল স্থানান্তরের কোন কারণ অথবা যৌক্তিকতা আমার জানা নেই।
তা ছাড়া কোনো কারণে স্কুলটি স্থানান্তর হলে দূরত্ব সৃষ্টির কারণে অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল বিমুখিতা দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌমিতা দাশ জানান, স্কুলটি স্থানান্তর নিয়ে তদন্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি নির্দেশনা পেয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে তদন্ত শেষে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
