জেনারেটর নেই: সরকারি হাসপাতালে লোডশেডিংয়ে চলছে রোগী দেখা, সেলাই-ড্রেসিং

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ০৭:৪৩ পিএম

লোডশেডিংয়ে হাঁসফাঁস করছেন মোংলার সরকারি হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসকেরা। হাসপাতালে ভর্তি উচ্চ রক্ত চাপসহ নানা রোগে আক্রান্তরা অসুস্থ বোধ করছেন এ পরিস্থিতিতে। রোগীর স্বজনদের দেখা গেছে হাতপাখা, কাগজ ও কাপড় নাড়িয়ে বাতাস করতে।

আর ইমারজেন্সি বিভাগে মোবাইলের আলো ও টর্চলাইট জ্বেলে করা হচ্ছে সেলাই ও ড্রেসিংয়ের কাজ। হাসপাতালের নিজস্ব বিদ্যুৎ (জেনারেটর অকেজো) ব্যবস্থা না থাকায় রোগী দেখতে হচ্ছে অন্ধকারেই। এ ছাড়া হাসপাতালের ফ্রিজে থাকা টিকাসহ নানা ওষুধও নষ্টের উপক্রম।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী মো. আসলাম বলেন, বারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে, এতে সুস্থ হওয়ার জায়গায় আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। গরমে খুব খারাপ লাগছে।

রোগীর স্বজন মো. জাকির, রহিমা বেগম ও শোভা মন্ডল বলেন, শুক্রবার সকালে একবার বিদ্যুৎ চলে যায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তিনবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। প্রতিবারে আধা ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নানা বয়সের রোগীর খুব কষ্ট হচ্ছে। সুস্থ হওয়ার চেয়ে গরমে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তাদের রোগীরা। তারাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। রোগীদের স্বস্তির জন্য যা হাতের কাছে পাচ্ছেন তা নাড়িয়েই বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সোহাগ হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনায় আমার ঠোঁট কেটে যায়। হাসপাতালে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই, চিকিৎসকেরা মোবাইলের লাইট ধরে সেলাই দিয়েছে। ঠিকঠাক হয়েছে কিনা জানি না। আর আমার পাশে এক রোগীকেও অন্ধকারে ড্রেসিং করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. আফসানা নাইমা হাসান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে রোগী দেখা, সেলাই-ড্রেসিং করা ও ভর্তি থাকা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালের টিকাসহ অন্যান্য মেডিসিনও নষ্টের উপক্রম। যদিও এটি জাতীয় সমস্যা, তারপরও হাসপাতাল অন্তত লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত রাখাটা জরুরি।

অভিযোগ রয়েছে, পিডিবি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা না মেনে যখন-তখন দেওয়া হচ্ছে লোডশেডিং।

তবে পিডিবির মোংলা আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন দু ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও দিন-রাত মিলিয়ে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত