১৮৭৬ সালে বগুড়া পৌরসভার জন্ম। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তর পৌরসভা এটি। নদী এবং খাল থাকার কারণে প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভা গড়ে ওঠার কথা ইতালির রোম বা ভেনিসের মতো। কিন্তু বৃষ্টি হলেই জলমগ্নতা দেখে বোঝা যায় না বগুড়া পৌর এলাকার সড়কগুলো পাকা নাকি কাঁচা কিংবা রাস্তা আদৌ আছে, নাকি নেই। কারণ, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নেই। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হলেই ডুবছে পৌর এলাকার বড় একটা অংশ। ভারী বৃষ্টি হলে অনেক বাসাবাড়িতেও উঠছে পানি।
এদিকে, গত বুধবার দুপুরে ১৫ মিনিটের বৃষ্টি হয় শহরে। দেখা যায়, পৌর এলাকার বগুড়া জুবিলি স্কুলের প্রাথমিক শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের প্যান্ট গুটিয়ে জুতা হাতে নিয়ে রাস্তায় উঠে আসা ময়লাযুক্ত পানি ভেঙে চকসুত্রাপুর, বাদুরতলার দিকে যাচ্ছে। তারা জানায়, হালকা বৃষ্টি হলেই ঢালাই করা রাস্তাটি ডুবে যায় ড্রেনের পানিতে। একই অবস্থা পৌর এলাকার বেশ কিছু এলাকায়।
বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার সড়ক রয়েছে প্রায় ৯৯১ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৩৫৫ কিলোমিটার। যে পরিমাণ সড়ক রয়েছে তার দুই পাশেও প্রয়োজনীয় ড্রেন নেই। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে ড্রেনের দৈর্ঘ্য মাত্র ৯০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪০০ কিলোমিটার কাঁচা। শহরের পুরনো ১২টি ওয়ার্ডের ড্রেনের প্রশস্ততা মাত্র দুই ফুট হওয়ায় এই ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা কমে গেছে অনেক আগেই। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি উপচে শহরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তখন ওই পথ দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পচা-নোংরা পানির মধ্যে হাঁটাচলা করতে হয় পৌরবাসীকে। আবার বৃষ্টি হলেও রাস্তাঘাট ও ড্রেনের পানি একাকার হয়ে যায়। ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার জলাবদ্ধতা থেকে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টিতে শহর ও শহরতলির নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাসহ পৌর এলাকার বাদুরতলা, চকসূত্রাপুর, সূত্রাপুর, ঠনঠনিয়া, মালগ্রাম, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, বড়গোলা, টিনপট্টি, কাটনারপাড়া, সুলতানগঞ্জপাড়া, ফুলবাড়ী, প্রেসপট্টি, ডালপট্টি, নামাজগড় ক্রস লেন, বৃন্দাবনপাড়া, চেলোপাড়া, নারুলী, জহুরুলনগরসহ আশপাশের সব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পৌর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসকারী শতাধিক জনগণ পৌর মেয়র বরাবর আবেদন দিয়েছেন জলাবদ্ধতা দূরীকরণে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, বৃষ্টির পরপরই পৌরসভার একটি দল শহরে নামে। যেখানে জলাবদ্ধতা থাকে, সেখান থেকে পানি নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা রহমান বলেন, ড্রেনেজ সমস্যা দূরীকরণের কাজ চলমান। বৃষ্টির কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী বছরের মধ্যে ড্রেনেজ সমস্যা সমাধান করা হবে।
