কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে ইউরোপ। পর্তুগাল, ফ্রান্স, স্পেন ছাড়িয়ে তীব্র তাপের কবলে জার্মানি, বেলজিয়াম। ৩ দিন আগেও জার্মানির বার্লিনে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কড়া তাপে কিংবা শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন আশ্রয়হীন, ভবঘুরে সহায়-সম্বলহীন মানুষরা। তবে জার্মানির বার্লিনে কড়া তাপে সহায়তা পেয়েছেন ঘরহীন মানুষরা।
জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদন জানায়, বার্লিনের শ্যোনেব্যার্গ জেলায় চালু হয়েছে ‘হিটৎসেহিলফে’ বা ‘গরমে সহায়তা’ নামের একটি প্রকল্প। বার্লিন সিনেটের অর্থায়নে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আইবি বার্লিন-ব্রান্ডেনবুর্গ। এতে খরচ হয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ইউরো। এর আওতায় একটি বাড়িতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গৃহহীনদের জন্য বিশ্রামের বিছানা এবং গোসলের জন্য বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভবনটি মূলত শীতকালে ‘কাল্টেহিলফে’ বা ‘শীতের সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। তবে এখন তীব্র গরমে দিনের বেলাও এর প্রয়োজন আরও বেশি হয়ে দেখা দিয়েছে। শ্যোনেব্যার্গ জেলা কর্র্তৃপক্ষই এই ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। ঘুম এবং গোসল ছাড়াও গৃহহীনদের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও শীতল পানীয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।
বার্লিনের অন্য অনেক গৃহহীনের মতো হিটৎসেহিলফে তীব্র গরমে আশ্রয় নিয়েছেন বুলগেরিয়া থেকে আসা লিলিয়ানা এবং এলিয়াস। মহামারীর কারণে চাকরি ও বাসস্থান হারিয়ে এখানে আশ্রয় পেয়ছেন লিলিয়ানা। এলিয়াস তার সব কাগজপত্র হারিয়ে ফেলায় এখন কোথাও কোনো কাজও পাচ্ছেন না। প্রচণ্ড গরমে কয়েক ঘণ্টা মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং ঠা-া পানিতে গোসল তাদের জোগাচ্ছে সারা দিনের চলার শক্তি।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে আড়াই থেকে সাড়ে ছয় হাজার মানুষ গৃহহীন। মাথার ওপর ছাদের অভাব থাকায় তাপপ্রবাহে ও তীব্র শীতে তারাই থাকেন সবচেয়ে বেশি বিপদে। হিটৎসেহিলফে এবং কাল্টেহিলফের মতো প্রকল্প তাদের জন্য সত্যিই স্বস্তিদায়ক।
