শুকুর আলী। বয়স মাত্র ৩৫। এই বয়সে ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। জিহবার নিচে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যান্সার। পরীক্ষা ধরা পড়ে গ্রেড-৩। পান খেতেন শুকুর। পানের চুন থেকে থেকে জিহবার নিচে ঘায়ের মতো হয়। এটা তিন মাস আগের ঘটনা। এজন্য টুকটাক ওষুধ খেয়েছেন। কিন্তু সেটা বাড়তেই থাকে। এরপর স্থানীয় লায়ন্স হাসপাতালে দেখালে শুকুরকে দিনাজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতলের চিকিৎসক মো. আলমগীর চিকিৎসা দেওয়ার পাশপাশি বায়োপসি পরীক্ষা দেন। এই বায়োপসি পরীক্ষায় ক্যান্সারের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরীক্ষা আসে- Invasive Squamous Cell Cercinoma grade-3
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের ডেন্টাল ইউনিটের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আরিফুলের শরণাপন্ন হন।
শুকুর আলির বাড়ি পার্বতীপুর পৌরসভা এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রোস্তম নগর এলাকায়। বাঁচার আকুতি জানিয়ে বললেন, আরিফুল ডা. আমাকে বলেছেন অপারেশন করলে ভালো হতে পারে। ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাগবে। এতো টাকা আমি কই পাবো। আমি একটা মুড়ির মিলে কাজ করি আমার সঞ্চয় নেই। তাই আমরা ঢাকায় এসেছি। আমি বাঁচতে চাই, আমার দুই সন্তান ছোট, আমি না বাঁচলে তাদেরকে মানুষ করবে কে? তাদেরকে দেখবে?
৩৫ বছরের শুকুর আলীর দুই সন্তান। বড় ছেলে নিশাত পঞ্চম শ্রেণি ও ছোট ছেলে তানজিদ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে ও স্ত্রী
মনোয়ারা বেগম তিথি। তিথি জানালেন, স্বামীকে নিয়ে আমি ঢাকায় চলে এসেছেন। ভর্তি করিয়েছেন ডাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলাম। পরীক্ষা করতে করতেই আমাদের টাকা প্রায় শেষ। এরপর অপারেশন করতে হবে।
পার্বতীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কমিশনার রোস্তম আলী জানান, এলাকার মানুষজনের কাছে সহায়তা চেয়ে কিছু টাকা দিয়ে আপাতত ঢাকা পাঠানো হয়েছে। সেটা খুবই সামান্য। এখন শুকুরের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। মানুষের সহায়তা ছাড়া সম্ভব না।
শুকুর আলি বর্তমানে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগে ডা. নুসরাত নুইরীর তত্ত্বাবধানে ৬ষ্ঠ তলার ১৪ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন।
শুকুরকে সহায়তা কিংবা কথা বলতে চাইলে- 01737951301
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সঞ্চয়ী হিসাব: মনোয়ারা বেগম তিথি, 0200018871395, অগ্রণীব্যাংক, পার্বতীপুর শাখা, দিনাজপুর।
