ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনার সময় মায়ের পেট চিড়ে রাস্তায় ভূমিষ্ঠ হওয়া কন্যা শিশুটি চিকিৎসার পর এখন সুস্থ আছে।
শিশুটিকে ঢাকার আজিমপুরে ছোটমনি শিশু নিবাসে পাঠাতে চায় ময়মনসিংহের প্রশাসন।
তবে শিশুর দাদা মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে এখনো মতামত দেননি।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, শিশুটি চিকিৎসাসহ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শিশুটিকে ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, শিশুটিকে ঢাকার ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো রেজুলেশন হয়নি।
সরকারি নিবাসে থাকলে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুটির থাকা খাওয়া চিকিৎসা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। যদি শিশুটিকে ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয় তকে তা পরিবারের মতামতের ভিত্তিতেই হবে। এ ছাড়া শিশুটিকে কেউ দত্তক দিতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে নিতে হবে।
শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের নাতিকে নিজেদের কাছেই রেখে লালন-পালন করতে চাই। শুনেছি জেলা প্রশাসন আমার নাতিকে ঢাকায় ছোটমনি নিবাসে দিয়ে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু এতে আমার মত নেই। শত কষ্ট হলেও আমার নাতিকে আমার কাছে রাখতে চাচ্ছি। শিশুটি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে সুস্থ আছেন ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট চিড়ে জন্ম নেয় এক শিশু।
এ সময় মারা যান শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম (৪২), মা রত্না বেগম ও ওই দম্পতির ছয় বছরের মেয়ে সানজিদা।
দুর্ঘটনার সময় রাস্তায় অলৌকিকভাবে মায়ের পেট চিড়ে নবজাতকটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমানকে ফোন করেন।
তবে মোস্তাফিজুর রহমান শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখেই লালনপালন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
