নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে কেন যায়নি, জানাল সিপিবি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৭ পিএম

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক চলছে নির্বাচন কমিশনের। তবে তাতে যাচ্ছে না বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা তুলে ধরে দলটি।

এ ছাড়া সখ্যানুপতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রার্থীর প্রচারের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নেয়া, ‘না’ ভোট, জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহারের বিধান, নির্বাচনকে টাকা-পেশি শক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রচারণা মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সিপিবি। 

বৃহস্পতিবার পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া এখনকার বাস্তবতায় দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকার যেন কোনো প্রকারে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক রক্ষা কবচ থাকাও অপরিহার্য।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে একটি স্বাধীন, দক্ষ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন,  নির্বাচনকালীন সরকার , নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো জরুরি কর্তব্য।

সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম এ ভোট ছিনতাই ও টেম্পার সম্ভব বলে সিপিবির নেতারা বলেন, বাংলাদেশে ব্যবহৃত ইভিএম এ কোনো Voter Verifiable paper Audit Trail (VVPAT) নেই। যার ফলে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা আপত্তি উঠলে ভোট পুনগণনার সুযোগ নেই। সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করি।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনে না যাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, প্রথমত: এ ধরনের মতবিনিময়ে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো যুক্তিযুক্ত হতো বলে আমরা মনে করি। নির্বাচন কমিশন এটা করেনি। এ ধরনের মতবিনিময় সভায় সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা না থাকায় মতবিনিময় বিশেষ কোনো ফল আনবে বলে আমরা মনে করি না। দ্বিতীয়ত: প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, “সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা রয়েছে, যা সময়ের সাথে সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।” নির্বাচন কমিশনের এসব কথার মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা পর্যাপ্ত ও ইভিএম মেশিনের ব্যবহারকে প্রশ্নাতীত করে তোলা হয়েছে। অথচ ইভিএম মেশিন ব্যবহারে অধিকাংশ অংশীজন একমত হননি।

তারা বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের এই মতবিনিময় ‘নিছক অন্যদের কথা শোনা ও নিজেদের কথা গেলানোর চেষ্টা’ ছাড়া কিছুই করবে না। তাই এই মতবিনিময়ে অংশগ্রহণের প্রয়োজন আমরা মনে করিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বক্তব্য রাখেন সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য  শামসুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত