হামলার পর থেকে ঢাবি ক্যাম্পাসে ঢোকেনি ছাত্রদল

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ০৯:০৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগ তুলে গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ছাত্রলীগ ছাত্রদলের ওপর কয়েক দফা হামলা করে। এরপর থেকে মধুর ক্যানটিন ও আশপাশের এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় না ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। এমনকি মধুর ক্যানটিনেও বসছে না ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

তবে ওই হামলার আগে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও টিএসসি এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করলেও হামলার পর ক্যাম্পাসের প্রবেশ মুখগুলোতেই কর্মসূচি পালন করছে নিয়েছে ছাত্রদল।

বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে শহীদ মিনার হয়ে বকশি বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ করছে তাদের কর্মসূচি। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রবেশ মুখে মিছিল সমাবেশ পালন করছে।

ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মে মাসের সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের হামলার আতঙ্কে এক সপ্তাহ ক্যাম্পাসের প্রবেশ করেনি ছাত্রদল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এক সমাবেশে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে আসতে হলে ক্ষমা চাইতে হবে। এরপর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি নেন। তবে ছাত্রদলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ মিনারের আশপাশে তাদের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত দেয় ছাত্রলীগ। সেই শর্ত অনুযায়ী বিগত কয়েক মাস কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল।

গত দুই মাসে ছাত্রদলের কর্মসূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। এই মিছিলগুলোর অধিকাংশ শুরু করা হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ অথবা বহির্বিভাগের সামনে থেকে। পরবর্তীতে মিছিলটি শহীদ মিনার হয়ে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখ বকশি বাজার মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করে শেষ করে ছাত্রদল।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসার চেষ্টা করছি। তবে বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পাসের ভেতর সভা-সমাবেশ করতে পারছি না। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে একটা সমঝোতায় এসেছেন, যার জন্য আমরা ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথে মিছিল-সমাবেশ করছি।

এদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি তিন বছর অতিক্রম করেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটির শীর্ষ নেতারা কোনো ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চায় না। বরং তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের আশপাশে কর্মসূচি পালন করতে চায়।

তবে এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমান উল্লাহ আমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে আমাদের সেই সম্পর্ক নেই যে আমরা সমঝোতায় যাব। তারা আমাদের ওপর যেকোনো সময় হামলা করতে পারে সেই আশঙ্কায় আমরা এই রুটটিতে মিছিল সমাবেশ করছি। তবে আমরা খুব শিগগিরই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আমাদের অধিকার আদায় করব।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলছেন, যাদের ছাত্রত্ব আছে তারা ক্যাম্পাসে আসবে এখানে ছাত্রলীগের বাধা দেওয়ার কিছু নেয়।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সকলের সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। ছাত্রলীগ কোনো সংগঠনের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করে না। যারা নিয়মিত ছাত্র তারা ক্যাম্পাসে আসবে। কিন্তু অছাত্র ও বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হলে ছাত্রলীগ তার জবাব দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত