আসামে বন্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে মুসলিমদের!

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ০৭:০৫ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ভয়াবহ বন্যার পর এখন অনলাইনে প্রচার চলছে যে স্থানীয় মুসলমানরাই এ বন্যার জন্য দায়ী!

এমন অভিযোগের শিকার হওয়া ব্যক্তির একজন হচ্ছেন নাজির হোসেন লস্কর। তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই ভোরে পুলিশ তার ঘরের দরজায় নক করলে তিনি রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যান। কারণ বহু বছর ধরে তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে আসামের বাঁধ সুরক্ষার জন্য কাজ করেছেন।

কিন্তু সেই সকালে যে পুলিশ কর্মকর্তা লস্করকে আটক করতে যান, তিনি সরকারি সম্পত্তির- বিশেষ করে বন্যা থেকে সুরক্ষার জন্য করা বাঁধের ক্ষতি করার জন্যই তাকে অভিযুক্ত করেন।

লস্কর বলেন, আমি ১৬ বছর ধরে সরকারের সঙ্গেই বাঁধ নির্মাণের কাজ করছি। আমি কেন তা ধ্বংস করতে যাব। ২০ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ এখনো মেলেনি। কিন্তু তাকে নিয়ে ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

গত মে ও জুন মাসে দুবার বন্যা হয় আসামে। এতে কমপক্ষে ১৯২ জন মারা যায়। যদিও প্রতি বছর মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বন্যা হয়। কিন্তু এবার বর্ষা এসেছিল একটু আগেই এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

কিন্তু এগুলো বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ভিন্ন ধরনের অশুভ তৎপরতা চালাচ্ছিল। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তারা দাবি করে যে এবারের বন্যা মনুষ্য সৃষ্ট এবং মুসলমানদের একটি দল পার্শ্ববর্তী হিন্দু অধ্যুষিত শিলচর শহরে বন্যায় ভাসানোর জন্য বন্যা সুরক্ষা স্থাপনার ক্ষতি করে এটি করেছে।

এরপর আরও তিনজন মুসলমানের সঙ্গে লস্করকে আটকের পর তাদের দায়ী করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা শুরু হয়। এসব পোস্ট হাজার হাজার বার শেয়ার হয়। এমনকি প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিও এগুলো শেয়ার করেন। পরে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমেও তা প্রচার হয়।

কারাগারে বসেই টেলিভিশনে নিজের নাম শুনতে পান লস্কর। সেখানে তাকে ‘বন্যা জিহাদের’ দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, আমি ভয় পেয়েছিলাম এবং সে রাতে ঘুমাতে পারিনি। অন্য বন্দীরা এটা নিয়ে কথা বলছিল। আমার মনে হচ্ছিল যে আমার ওপর হামলা হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত