কক্সবাজারের টেকনাফে গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম। আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত এ কাজ চলবে। এ নিয়ে নতুন ভোটার প্রত্যাশী এবং বাদ পড়াদের মধ্যে দেখা গেছে উদ্দীপনা। নতুন ভোটার হওয়ার জন্য তারা এখন ছুটছেন এখানে-সেখানে। সংগ্রহ করছেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তবে এসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে ঘুষ না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় নাগরিকদের। পর্যাপ্ত টাকা না দিলে তিনি ডকুমেন্টে সই করেন না বলে নাগরিকরা জানান।
হ্নীলা ইউপি কার্যালয়ে গত বুধবার গিয়ে দেখা যায়, ইউপি সচিব শেখ ফরিদ আলম নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ভেতরে বসে আছেন। অনেক নারী ছোট ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তার জানালায়। ইউপি সচিব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করলেও চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে তা ছাড়ছেন না। এতে কেউ কেউ কাগজ না নিয়েই চলে যাচ্ছেন। দেখা যায়, কাজ শেষ করতে না পেরে আগের দিন চলে যাওয়া কেউ কেউ পরদিন এসে দেখেন একই চিত্র। ইউপি সচিব শেখ ফরিদ আলম তাদের কাছ থেকে ন্যূনতম নিচ্ছেন একশ করে টাকা। কারও ডকুমেন্টে ঝামেলা ধরতে পারলে তাকে দিতে হচ্ছে আরও বেশি।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভোটার হতে গেলে সংগ্রহ করতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২২ প্রকারের ডকুমেন্ট। এসব ডকুমেন্টে ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় ঘুরতে হচ্ছে চেয়ারম্যান, মেম্বার (ইউপি সদস্য), ইউপি সচিব, চৌকিদার, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে। ফলে কয়েক দিন লেগে যাচ্ছে এগুলো সংগ্রহ করতে। এতে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। আর এখানে-সেখানে দিতে হচ্ছে টাকা। বিশেষ করে হ্নীলা ইউপি সচিবকে টাকা না দিয়ে কাজ করানো যাচ্ছে না।
আবার ভূমিহীন মানুষগুলো শিকার হচ্ছেন অতুলনীয় ভোগান্তির। তাদের কাছ থেকে হ্নীলা ভূমি অফিসের কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। ভূক্তভোগীরা বলেন, কাগজপত্র সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাইয়ে কালক্ষেপণ হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটার হতে পারব কিনাতা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।
এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাগজপত্র সম্পন্ন করতে উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেলেও সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদ আলম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন খোদ ওই ইউনিয়নের সদস্যরাও (মেম্বার)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ইউপি সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইউপি সচিব (শেখ ফরিদ আলম) ইউপি সদস্যদের পর্যন্ত পাত্তা দেন না। নির্বাচিত ইউপি সদস্য হওয়ার পরও কোনো কাগজে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করলে নানা অজুহাত দিয়ে কালক্ষেপণ করেন। তার এমন কর্মকা-ে পরিষদে যেতে অনীহা চলে আসছে। তার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে আমরা অতিষ্ঠ।
ভুক্তভোগী ভোটার প্রত্যাশীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি ফাইলে ১শ থেকে শুরু করে ইচ্ছেমতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ওই ইউপি সচিব। টাকা ছাড়া কোনোভাবেই তিনি ফাইল ছাড়েন না। তা ছাড়া ভাবখানা এমন দেখান, যেন তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিব!
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে হ্নীলা ইউপি সচিব শেখ ফরিদ আলম ‘আমি মিটিংয়ে আছি, পরে ফোন দেব’ বলে লাইন কেটে দিয়ে আর কলব্যাক করেননি।
এসব ব্যাপারে জানালে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনার কাছ থেকে বিষয়টা জানলাম। ব্যাপারটা দেখব।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরফানুল হক বলেন, এখনো পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
