ভোটার হালনাগাদ: ঘুষ নেয়ায় টেকনাফে স্কুলশিক্ষক বহিষ্কার

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ১০:০১ পিএম

কক্সবাজার টেকনাফে ভোটার হালনাগাদ শুরু হয়েছে ১লা আগস্ট থেকে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত। ভোটার প্রত্যাশীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পান লাতুরীখোলা 'তালেব বাহার' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইয়াছিন আরফাত।

অভিযোগ রয়েছে ,তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুষ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াছিন। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের পর মঙ্গলবার তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ভোটার প্রত্যাশীদের কাছ থেকে তিনি প্রতি ভোটার ফরমের বিনিময়ে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন বলে। অনেকে ঘুষ দিতে না পারায় ভোটার ফরম না নিয়েই চলে গেছেন।

ভোটার প্রত্যাশীরা এমন অনৈতিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুষ নেয়ার ঘটনা গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। এরপর ভিডিওটি এ প্রতিবেদকের কাছে হস্তান্তর করে ভোটার প্রত্যাশী কয়েকজন।

ভিডিওতে দেখা যায়, টাকা গুনে গুনে ওই শিক্ষক প্রত্যাশীদের বলছেন, 'যাদের (টাকা) আছে তারা দুই ফাইলে এত টাকা দিয়েছে, ৫ হাজার। তোমরা নাকি আরো বেশি দিবা'? তখন ভোটার প্রত্যাশী একজন বলেন, 'ও স্যার, আমরা স্টুডেন্ট মানুষ এত টাকা চাইতে পারবেন নাকি'?

ঘুষ অভিযোগ পাওয়ার পর টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কমিশন থেকে ইয়াছিন আরফাতকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বেদারুল ইসলাম জানান, ভিডিওসহ অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উক্ত এলাকায় নতুন একজন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ।

অভিযোগকারীরা জানান, আমাদের কাছ থেকে মাস্টার ইয়াছিন অন্তত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ টাকা আমরা ফেরত চাই। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমাদের টাকাগুলো তাকে চুপে চুপে খাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মতো হয়েছে। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি কোনো শাস্তি হতে পারে না! এ ঘুষখোর মাস্টারকে স্কুল থেকেও বহিষ্কার করে উচিত শাস্তি দেওয়া দরকার।

তারা বলেন, কয়েক দিনের দায়িত্ব পেয়ে একজন শিক্ষক যখন দ্রুত অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে ,এমন নীতিনৈতিকতাহীন ঘুষখোর শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্রছাত্রীরা কোনো ধরনের নৈতিক শিক্ষা পাবে বলে আশা করা যায় না! তাই তাকে শিক্ষাঙ্গন থেকেও সরিয়ে উচিত শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক ! অন্যথায় ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্ব পেলে আরো বেপরোয়া হবে ।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এমদাদুল হকের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কেউ কোনো অপরাধ করে থাকে,তাহলে অপরাধের শাস্তি পেতেই হবে।

অভিযুক্ত ইয়াছিন আরফাতকে ফোন করে টাকার নেয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি লাইন কেটে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত