চকবাজারে আগুনে নিহত বেল্লালের বেতনেই চলতো সংসার

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৫ পিএম

পুরান ঢাকার চকবাজারের কামালবাগের দেবীদাস ঘাটের একটি ভবনে আগুনের ঘটনায় ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্গের সামনে নিখোঁজ কয়েকজনের ছবি নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে স্বজনদের। পোড়া-গলা যাই হোক মৃতদেহ দেখে শনাক্ত করতে চাইছেন তারা।

মর্গে লাশ নিয়ে আসা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস পরিদর্শক ইউনুস আলী জানান, ঘটনাস্থলে তারা ৬টি লাশ পেয়েছেন। ৬টি লাশই মর্গে আনা হয়েছে। লাশগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। কারো চেহারাই কোনোভাবে চিহ্নিত করার উপায় নেই। শরীরের বেশির ভাগ অংশই পোড়া। 

এ পর্যন্ত তিনটি পরিবার দাবি করছে ৬টি লাশের মধ্যে ৩টি তাদের। এরা হলো: বেল্লাল (৩৫), রুবেল (৩২), ওসমান (২৫)। তারা তিনজন ভবনের নিচতলার বরিশাল হোটেলের স্টাফ। বেল্লালের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদি থানায়, রুবেলের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকানী থানায় এবং ওসমানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ঘোষের হাটে।

মর্গের একপাশে দাড়িয়ে আছে মো. বেল্লালের পরিবার। বেল্লালের ছোট ভাই মো. আয়ুব আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বেল্লালের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদি থানায়। বেল্লালরা ৩ ভাই ২ বোন। বেল্লাল বিবাহিত। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে (১৪) মাদ্রাসায় পড়ে, মেজো মেয়ে (১২) হাই স্কুলে পড়ে এবং ছোট ছেলের বয়স সাড়ে তিন বছর। বেল্লাল দীর্ঘ দিন যাবত এই হোটেলটিতে কাজ করে আসছে। সে হোটেলের ওপরে একা বসবাস করলেও তার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে গ্রামে থাকতো। তার বেতনের টাকায়ই চলতো সংসার। রবিবার শেষ বার গ্রামে ফোনে পরিবারের সাথে কথা হয়েছে বেল্লালের। 

আয়ুব আলী আরো জানান, তিনি ধানমন্ডিতে একটি বিরিয়ানির দোকানে কাজ করেন। দুপুরে আগুনের ঘটনা শুনে তিনি ভাইকে ফোন দেন। ফোনে না পেয়ে দ্রুত চকবাজারে ঘটনাস্থলে চলে আসেন। ঘটনাস্থলে বরিশাল হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিন আকনের সাথে দেখা হয় তার। ফখরুদ্দিন আকন তাকে জানায়, ওপরে কেউ ছিল না। সবাই আগুন লাগার পরে বের হয়ে গেছে। কোথায় আছে খুঁজে দেখেন। সেখানে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও কোন খবর না পেয়ে মিটফোর্ডে চলে আসেন। এখানে নাকি ছয়জনের লাশ এসেছে, তাই খবর নিতে এসেছেন তার ভাইও কি এই লাশের মাঝে আছে কি না? একে একে তার পরিবারের অনেকেই জড়ো হয়েছেন।

তবে, এখন পর্যন্ত তারা লাশ দেখতে পাননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত